advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাঁশখালীর জেলে সম্প্রদায় হামলা ও লুট আতঙ্কে

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১
advertisement

বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম নাপোড়া কৈবত্যপাড়ার সংখ্যালঘু জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন হামলা ও লুটপাটের আতঙ্কে আছেন। গত ১ জুন ও ১০ জুন ওই পাড়ায় দুষ্কৃতকারীরা দুদফা হামলা, ভাঙচুর ও পুকুরের মাছ লুট করে। প্রকাশ্যে কেটে নিয়ে যায় পাড়ায় প্রবেশপথের প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। বাধা দিতে গেলে ৬ নারী ও ২ পুরুষকে বেধড়ক পেটানো হয়। হামলাকারীরা পারিবারিক শ্মশানের মন্দিরও ভেঙে দিয়েছে।

ওই ঘটনায় আহত হন বরুনা দাস (৪৮), সমিতা দাস (৫০), বেঞ্চু দাস (৪৬), দেবকী দাস (৪৫), ডেজী দাস (২৮), মঙ্গলী দাস (৪৮), ফকির চাঁদ দাস (৩৮) ও হরিসেন দাস (৩৫)।

হামলার পর সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা পথে পাহারা বসিয়ে আহতদের চিকিৎসা করতে যেতে বাধা দিয়েছে। পরে ভিন্ন পথে পালিয়ে গিয়ে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং ৬ জন কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় বেসরকারিভাবে চিকিৎসা নেন। থানায় মামলা করলে জায়গাজমি ছেড়ে ভারত চলে যেতে হবে, কিংবা পুরো পাড়া জ্বালিয়ে প্রাণে মারা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে হামলাকারীরা। ঘটনার এক মাস পার হলেও পুরুষরা স্বাভাবিকভাবে পাড়ায় যেতে পারছে না।

ওই অভিযোগ নিয়ে গত ৪ জুলাই নাপোড়া জেলেপাড়ার বাসিন্দারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগকারী তপন দাস, দীপংকর দাস, বাসন্তি দাস, রবি চাঁদ দাস, সাধন দাস বলেন, জেলেপাড়ায় দুইশো বছর ধরে পূর্বপুরুষদের জায়গায় আমরা বসবাস করছি। জয়নাল আবেদীন ও

মীর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনসহ ৬ ব্যক্তি আমাদের পৈতৃক বসতভিটার ১১৮ শতক জায়গা দখলের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি জেনে আদালতের শরণাপন্ন হলে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই বাঁশখালীর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর থেকে তারা নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাদের জায়গা দখলের চেষ্টা চালায়। গত ১ জুন সশস্ত্র অবস্থায় অন্তত ৪০ জন লোক প্রকাশ্যে পুকুরের দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে এবং পুকুর পাড়ের অর্ধশতাধিক গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানায় অভিযোগ দিলে দুষ্কৃতকারীরা পুনরায় ১০ জুন আমাদের পাড়ায় সশস্ত্র হামলা চালায়। পুনরায় গাছ কেটে নেয় ও পুকুরের মাছ লুট করে। ওই সময় ভয়ে পুরুষরা পাড়া থেকে পালিয়ে গেলে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা নারীদের ওপর হামলা চালিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয়। পারিবারিক শ্মশানের মন্দির ভেঙে দেয়। এমনকি আহতদের চিকিৎসা যাতে না হয়, সে জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দিতে পথে পাহারা বসায়।

তারা আরও বলেন, থানায় মামলা করলে প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়ায় আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, আমার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে লিখিতভাবে। আমি তা থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি বাঁশখালী থানাপুলিশ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংখ্যালঘু জেলে সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ তৎপর আছে। কোনো দুষ্কৃতকারী হুমকি-ধমকি দিয়ে কারও জায়গাজমি দখল করতে পারবে না।

অভিযুক্তদের পক্ষে জয়নাল আবেদীন বলেন, জেলেপাড়ায় আমরা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করিনি। আমাদের জায়গা উদ্ধারে গিয়েছিলাম। ওইসব জায়গা আমাদের। কাউকে হুমকি-ধমকিও দিচ্ছি না।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বাঁশখালী শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের কাছে এই বর্বরোচিত হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।

জানা গেছে, অতীতে এই জেলেপাড়ার লোকজন বারবার দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হওয়ায় অনেকে ভারতে চলে গেছে। হামলাকারীরা এই সুযোগে অন্যদেরও এলাকা ছাড়া করতে হামলার কৌশল নিয়েছে।

advertisement