advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করিম ও লতিফ জুট মিল
বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন শ্রমিকদের

মো. মিজানুর রহমান ডেমরা
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১
advertisement

বকেয়া বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ডেমরার রাষ্ট্রায়ত্ত করিম ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিকরা। গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সিদ্ধান্তের পর কারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে হতাশা-আতঙ্কসহ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা। এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে চাল-ডাল নেই, কয়েক মাসের বাসাভাড়া বাকি; দোকানে বাকি রয়েছে অন্তত এক বছরের। অভিযোগÑ জুন মাসের বকেয়া বেতন দেওয় হচ্ছে না, গত বছরের ডিসেম্বর মাসসহ ৫ সপ্তাহের মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি। বাড়িভাড়া, দোকানের বাকিসহ সাংসারিক খরচ জোগাতে না পেরে অপমান-অপদস্থ হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত করিম জুট মিলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে ১৭৬১ জন ও অস্থায়ী ৭০০ থেকে ৭৫০ জন। লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন ২৫৬০ জন, অস্থায়ী শ্রমিক আছেন দেড় সহস্রাধিক। লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে জুন মাসসহ ৫ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়ে আছে। এ ছাড়া গত বছর ডিসেম্বর মাসের এক সপ্তাহের মজুরি বাকি। এদিকে করিম জুট মিলেও জুন মাসসহ গত বছরের ৫ সপ্তাহের মজুরি বাকি পড়ে আছে।

শ্রমিকরা জানান, কারখানা বন্ধ বলে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকরা কী করে জীবিকানির্বাহ করবেনÑ এ নিয়ে হতাশা-আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। অন্যদিকে বকেয়া মজুরি না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন

কাটছে।

এ বিষয়ে করিম জুট মিলের প্রবীণ শ্রমিক মো. শফিক বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা পাটকল শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। তা ছাড়া নানা কারণে পাটকল শ্রমিকদের ভাগ্যও বদলায়নি; বাস্তবায়ন হয়নি মজুরি কমিশনসহ আমাদের অন্যান্য দাবিগুলোও। এখনতো মিল বন্ধই হয়ে গেল। আমরা ভবিষ্যতে চলব কীভাবে? অন্য কাজও শিখতে পারিনি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে আমাদের।

লতিফ বাওয়ানী জুট মিল সিবিএর সাবেক কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, পাটকলগুলো বন্ধ ঘোষণার পর শ্রমিকদের যেন মাথায় হাত। এ পর্যায়ে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা শুনেছি।

এ বিষয়ে করিম জুট মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পাটকল বন্ধ থাকলেও অফিস খোলা রয়েছে। তাই শ্রমিকরা বকেয়া বেতন প্রাপ্তির আশা করছেন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে শ্রমিকদের আপাতত খাওয়া-পরা চলবে। তবে মিল বন্ধ রয়েছে বলে শ্রমিকরাও ভবিষ্যৎ চিন্তায় আতঙ্কে রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মহিউদ্দিন সাদেক ও করিম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মো. রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলে তারা রিসিভ করেননি।

advertisement
Evaly
advertisement