advertisement
advertisement

১৬ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১
advertisement

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে তার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায়ে। দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আদায়কারী এ প্রতিষ্ঠান অন্যান্য বছর বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা আদায় করতে সক্ষম হলেও এবার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও আদায় করতে পারেনি।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের শেষ তিন মাস (এপ্রিল, মে ও জুন) রাজস্ব আয়ে ভয়াবহ ধস নামে। বছরের কোনো মাসেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়া রাজস্ব আদায় না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া ধস নেমেছে গাড়ি আমদানিতেও। আবার মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অনেকেই পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি করে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এসব পণ্যের আমদানি কমে যায়।

জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে ৬৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করোনা সংকটের কারণে পরবর্র্তীতে

প্রায় ৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৮ হাজার ২৯৮ কোটি ৫ লাখ নির্ধারণ করে। কিন্তু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৪১ হাজার ৮৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকেও ১৬ হাজার ৪৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা কম। অর্থাৎ গত অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ২৮ দশমিক ২১ শতাংশ। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

জানা গেছে, করোনা সংকটে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ছাড়াও জ্বালানি তেলসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে গেছে। ফলে পণ্যের মূল্যের ওপর নির্ধারিত শুল্ককর কমে যায়। আবার আমদানিকারকরা পণ্য আমদানি করে বন্দরে আনলেও খালাস নেননি। এসব চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা না পড়ায় শুল্কায়ন হয়নি। তাই রাজস্বও জমা হয়নি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৭২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম। শেষ মাস জুনে ৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ২৪৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, আমদানি বেশি হয়, এমন বেশিরভাগ পণ্যের আমদানি কমে যায়। ফলে কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় হয়নি। এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ তিন মাস আমদানি-রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এসব কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমসেও প্রভাব পড়েছে।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৩৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। আদায় হয়েছিল ৪৩ হাজার ৫৭৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কম হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ৪৪ হাজার ৬৭৭ কোটি ২১ লাখ টাকায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪২ হাজার ৩৪৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২২ শতাংশ কম। কিন্তু বিগত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।

advertisement
Evaly
advertisement