advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

১০ দিনের মাথায় সুনামগঞ্জ ও লালমনিরহাটে আবারও বন্যা

সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ফের বাড়ছে যমুনার পানি

আমাদের সময় ডেস্ক
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১
advertisement

ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে টানা ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিবর্ষণ হয়েছে সুনামগঞ্জেও। এর ফলে জেলার নদীতীরবর্তী এলাকা ও হাওরাঞ্চলে মাত্র ১০ দিনের মাথায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া তিস্তার পানি বাড়ার ফলে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। বন্যায়

ফের পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। দফায় দফায় বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীতীরের মানুষগুলো।

অন্যদিকে যমুনা নদীর পানি টানা নয় দিন কমতে থাকার পর সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজিপুর পয়েন্টে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। তবে পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় পানি বাড়ছে টাঙ্গাইলেও। নদীর পানি বাড়লেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের খবরÑ

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে অধিক বৃষ্টি হওয়ায় ওই দিকের পানি নেমে এসে মাত্র ১০-১১ দিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ অঞ্চলে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার এবং পাহাড়ি নদী যাদুকাটার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর ফলে নদীগুলোর পানি কুল উপচে জেলার সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ^ম্ভরপুর এবং তাহিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রবেশ করে নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর, ধোপাখালী, ষোলঘর, কাজীর পয়েন্ট, উকিলপাড়া, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া এলাকার কিছু বসতবাড়িতেও পানি উঠেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এ কারণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ৭.৮ অতিক্রম করে ৮.০২ সেন্টিমিটার এবং যাদুকাটার পানি বিপদসীমা ৮.৫ অতিক্রম করে ৮.০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আরও দুই-তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে উজানের ঢলে আবারও লালমোনিরহাটে বেড়েছে তিস্তার পানি। শুক্রবার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওই পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল বলে জানায় পাউবো।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, পলাশী; সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকু-া ইউনিয়নের তিস্তাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চতুর্থ দফায় তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীপারের মানুষ বড় বন্যার শঙ্কায় ভুগছেন। করোনা দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বন্যা নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে জেলার নদীতীরবর্তী মানুষ। এ ছাড়া ঈদুল আজাহা সামনে, এ সময় আবার বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষগুলো।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানিপ্রবাহ শুক্রবার সকাল থেকে বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও চার ঘণ্টা পর বিকাল ৫টার দিকে বেড়ে গিয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ভারতের পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভর করবে বন্যা কতটুকু স্থায়ী হবে।

সিরাজগঞ্জে গত ২ জুলাই থেকে কমতে থাকে যমুনার পানি। টানা নয় দিন পানি কমার পর আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই-একদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছেÑ সরকারিভাবে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২৫ টন চাল। তবে বাঁধ এলাকায় আশ্রয় নেওয়া বন্যাকবলিত মানুষগুলোর অভিযোগÑ এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণ তাদের কাছে পৌঁছেনি।

এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না জানান, তিনি উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পাঁচ শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলে নদীর পানির প্রবল স্রোতে কালিহাতী, ভূঞাপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন অসংখ্য মানুষ; তলিয়ে আছে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট।

জেলা পাউবো সূত্র জানায়, শুক্রবার যমুনা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪০ সেমি নিচে এবং ঝিনাই নদীর পানি ৫ সেমি বেড়ে বিপদসীমার ২৪ সেমি নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধলেশ্বরী নদীর পানি ৬ সেমি কমলেও বিপদসীমার ২৯ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

advertisement