advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সে দুর্নীতির আখড়া

আবু আলী
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০৮:৫০
advertisement

দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সে লিমিটেড। উন্নয়ন কর্মকর্তার এজেন্ট লাইসেন্স ছাড়াই পলিসি বিক্রি, জাল ও ভুয়া কাগজের মাধ্যমে প্রিমিয়ামের ওপর কমিশন প্রদান, অবলিখন কর্মকর্তাকে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে কমিশন সংগ্রহ, ভুয়া লোকের নামে বেতন উত্তোলন, বীমা আইন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, গরমিল তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া কোম্পানির শাখায় কর্মকর্তাদের বেতনভাতা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়নি। বেতনের নামে উত্তোলিত অর্থ বীমা গ্রাহককে প্রদান এবং আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নগদে প্রদান দেখানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের প্রদর্শিত বেতনের নামে অস্বাভাবিক লেনদেন, ভুয়া ডকুমেন্ট প্রস্তুত করে অবৈধ সুবিধা প্রদান এবং আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সার্ভিল্যান্স টিমের তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

আইডিআরএর প্রতিবেদনে বলা হয়, বীমা আইন ২০১০ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ অনুযায়ী ব্যবসা সংগ্রহের জন্য ‘উন্নয়ন কর্মকর্তা’ নামে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবসা সংগ্রহকারী এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। অথচ এজেন্টের অনুরূপ মোট ব্যবসা সংগ্রহের হার অনুসারে এবং নির্দিষ্ট

বেতনে উভয় পদ্ধতিতে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়। এ ছাড়া উন্নয়ন কর্মকর্তার নামে বিভিন্ন পদ সৃষ্টি করে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নতুনভাবে অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন গ্রহণ করেননি।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বীমা গ্রাহককে বিধিবহির্ভূতভাবে ১৫ শতাংশ কমিশন এবং ১৫ শতাংশের অধিক কমিশন দেওয়ার উদ্দেশে এসব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন এবং সিটি সেন্টার শাখায় আগস্ট মাসে নিট প্রিমিয়ামের ৪৭.৯০ শতাংশ অর্থ বেতন ও কমিশন বাবদ দিয়ে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বীমা আইন লঙ্ঘন করেছেন।

সার্ভিল্যান্স টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্মকর্তার কোনো এজেন্ট লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও তাদের দ্বারা ব্যবসা সংগ্রহ বা পলিসি বিক্রয় করে সংগৃহীত প্রিমিয়ামের ওপর এজেন্টের কমিশন প্রদানের অনুরূপ পারিশ্রমিক প্রদানের জাল ভুয়া কাগজপত্র প্রস্তুত করে ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স। উন্নয়ন কর্মকর্তাকে এজেন্ট হিসেবে কাজ করানোর আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকায় এখানে বীমা আইন ২০১০-এর ৫৮(১) ধারা বিধান এবং কর্তৃপক্ষের সার্কুলার নং নন-লাইফ ৩৪/২০১২ এর নির্দেশনার লঙ্ঘন হয়েছে।

ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ সোলায়মান কোম্পানির একজন অবলিখন কর্মকর্তা এবং তার পদবি সিনিয়র ম্যানেজার হলেও তিনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন এজেন্ট। তবে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এজেন্ট লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কোম্পানির শাখা থেকে প্রদত্ত হিসাব মোতাবেক এজেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ সোলায়মান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৩১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৫ টাকা ব্যবসার বিপরীতে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৭০ টাকা কমিশনপ্রাপ্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ওই মাসে স্থায়ী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপত্রে নির্ধারিত মাসিক বেতনভাতাও গ্রহণ করেছেন।

তদন্তকালে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিনিয়র কর্মকর্তা সোলায়মান বীমা এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত কমিশনের অর্থ ১৪.২৫% হারে পলিসি গ্রাহকককে বুঝিয়ে দেন। মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আরও স্বীকার করেছেন, আইন অনুসারে এজেন্ট কমিশন গ্রাহককে দেওয়া যায় না। কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরসহ চলতি মাসে প্রাপ্ত কমিশনের অর্থ পলিসি গ্রাহককে প্রদান করে ব্যবসা সংগ্রহ করেছেন।

সার্ভিল্যান্স টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নন-লাইফ বীমা কোম্পানির কমিশন সংক্রান্ত অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে আইডিআরএর জারি করা সব সার্কুলারের নির্দেশনা পরিপালন না করে ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স বিভিন্ন অপকৌশল নেয়। তন্মধ্যে অপেশাদার এবং অনভিজ্ঞ লোককে কোম্পানির উচ্চ পদে অধিক বেতনভাতাসহ আর্থিক সুবিধা দিয়ে উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের সার্কুলার নং নন-লাইফ ৬৪/২০১৯ এবং নন-লাইফ ৭০/২০১৯ জারির পর অবৈধ কমিশনের নামে গ্রাহককে নির্ধারিত প্রিমিয়ামের চেয়ে হ্রাসকৃত রেটে অবৈধ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে অক্টোবর ২০১৯ মাসে উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন পদবি দিয়ে নতুন নতুন উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। কর্মকর্তাদের বেতন শিটের সাথে তাদের ব্যক্তিগত নথি পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রকৃত লোক স্বাক্ষর ব্যতিরেকে বেতন উত্তোলন করেছেন এবং স্বাক্ষর না করেও বেতন উত্তোলন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের বৈদেশিক শাখার এসটিডি নং ৪০৩ এর চেক নং ১৪৪৭১০৯ এর মোট ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৩৯ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের হিসাব নং ১০৭০৬ এর চেক নং ৩৭০৫২৮৫-এ মোট ৬ লাখ ৬১ হাজার ১৯০ টাকা নগদ উত্তোলন করে উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নামে বিতরণ দেখানো হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের সার্কুলার নং নন-লাইফ ৬৪/২০১৯ এর ৭ নং নির্দেশনার লঙ্ঘন। যেহেতু কোম্পানির শাখায় কর্মকর্তাদের বেতনভাতা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়নি তাতে প্রমাণিত হয়, বেতনের নামে উত্তোলিত অর্থ বীমা গ্রাহককে প্রদান এবং আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নগদে প্রদান দেখানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ আইডিআরএর ভিজিল্যান্স টিমের পরিদর্শনকালে যেসব অনিয়ম দেখেছেন সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব গত ১২ ফেব্রুয়ারি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে আমাদের ছোট ছোট ভুলকে সহানুভূতির সাথে বিবেচনায় নিয়ে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তা শোধরানোর সুযোগ দেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে ইসলামিক কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আইডিআরএর কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছি।

 

 

advertisement
Evaly
advertisement