advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিদ্যমান ব্যবস্থার দর্পণ

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০০:১৮
advertisement

বাংলার ইতিহাসে মাৎস্যন্যায়ের কাল বলে একটা যুগের উল্লেখ পাই। ওই যুগে অপরাধ করলে শাস্তি হবে এমন নিশ্চয়তা ছিল না; সমাজের বড় মাছগুলো নির্বিঘেœ ও নিয়মিত ছোট মাছগুলোকে গিলে খেত এবং পুষ্ট হতো। এই অরাজক পরিবেশে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়েছে। সেটা ছিল অষ্টম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের পরিস্থিতি। তখন গোপাল নামে একজন নেতার অভ্যুদয় ঘটে। জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ বলেন যে, গোপাল ছিলেন একজন নির্বাচিত নেতা। তিনি অরাজকতা দূর করে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছেন, নেতা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে জনগণের স্বার্থের অধীনে রাখার যে দৃষ্টান্ত বাংলায় সেদিন স্থাপিত হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। অতিশয়োক্তি অবশ্যই। হয়তো আসলে এমনটা ঘটেছিল যে, স্বাধীন শাসকরা ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীরা সবাই মিলে তাদেরই একজনকে কর্তৃত্ব দিয়েছিল, সেই একজন নিজেও হয়তো সশস্ত্র দুঃসাহসিক ব্যক্তি ছিলেন। কর্তৃত্ব পেয়ে তিনি যে জনগণের স্বার্থ দেখেছেন এমনও হয়তো নয়। না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ইতিহাসে পুনরাবৃত্তি নেই, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন অষ্টম শতকের মাৎস্যন্যায়ের মতো অবশ্যই নয়; কিন্তু কথিত ও আদর্শায়িত আইনের শাসন যে এখানে বেশ দুর্বল, সেটা সত্য। এ লেখাটি লিখতে লিখতেই তো খবর এসেছে পিরোজপুরে ৩ মার্চের আদালতি ঘটনার। জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং সাবেক এমপির বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তিন-তিনটি মামলা, দুটি মামলায় তার স্ত্রীও অভিযুক্ত। জেলা ও দায়রা আদালতের জজ সাহেব ওই আওয়ামী নেতা ও তার স্ত্রীকে (যিনি আবার মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি) জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযুক্ত নেতা অসুস্থ জানানোয় তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থারও আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই নানা ঘটনা ঘটা শুরু হয়ে যায়। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা হইচই শুরু করেন, তারা আদালত বর্জন করেন। বাইরে মিছিল বের হয়ে যায়। জেলের তালা ভাঙার আওয়াজ ওঠে। সড়ক অবরোধ করা হয় এবং ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই ফ্যাক্সে ঢাকা থেকে বার্তা এসে যায় যে, বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে, এবং তার পরবর্তী যিনি তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার। তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। তার কাছে জামিনের জন্য পুনরায় আবেদন করা হয়। ১৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি জামিন মঞ্জুর করে দেন। ঘটনার অগ্রগতি সেখানেই থেমে থাকেনি। জামিনপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান এমপি, যিনি বর্তমানে আবার একজন মন্ত্রীও, তিনিই নাকি কলকাঠি নেড়ে নেড়ে নিরীহ জননেতা ও তার স্ত্রীকে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

পিরোজপুরের এ ঘটনাটা একদিক দিয়ে খুবই ছোট। দুজন অভিযুক্তের জামিন পাওয়া বৈধ নয়। কিন্তু এর তাৎপর্য খুবই বড়। যে জন্য অত্যন্ত দ্রুতগতিতেই নানা প্রতিক্রিয়া চলে এসেছে। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ব্যাপারটা যে সব সময় সহজ ব্যাপার নয়, তা কারাবন্দি খালেদা জিয়ার পক্ষে যারা জামিনের আবেদন করে থাকেন ও যতবার আবেদন করেন ততবারই যারা ব্যর্থ হন সেই আইনজীবীরা জানেন এবং আরও অনেক দিন ধরে তারা তা জানতে থাকবেন বলে ধারণা করা যায়। তবে জামিন পাওয়া যে আবার সহজ, সেটাও তো বোঝা গেল। মনে হয় ব্যাপারটা নির্ভর করে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর।

পিরোজপুরের ঘটনার মতো ঘটনা আরও ঘটছে। যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ও দুর্দান্ত ঠিকাদার জিকে শামীম গত ফেব্রুয়ারিতেই ‘গোপনে’ জামিন পেয়ে গেছেন, যার খবর রাষ্ট্রীয় পক্ষের সদাসতর্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের কেউই জানেন না বলে দাবি করা হয়েছে। শামীমের জামিন পাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে হইচই হয়েছে, হওয়ার পরের দিনই জামিন বাতিল হয়ে গেছে। জামিন দেওয়াটা নাকি ঘটেছিল ভ্রমবশত। এমন অবস্থায় হতবাক হওয়া ছাড়া আমাদের আর কী-ই বা করার থাকে। পিরোজপুরের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা ও মানবাধিকার রক্ষার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই বলা শুরু করেছেন যে, বিচারিক ইতিহাসে বিচারক বদল এবং বিচারিক আদেশ নাকচ করার এই ঘটনা অভূতপূর্ব। একে অশনিসংকেতও বলা হচ্ছে। নাকি এর মধ্য দিয়ে নিম্ন আদালতের সব বিচারকের কাছেই সাংকেতিক এ বার্তাটি পাঠানো হলো যে, রায় বুঝেসুঝে দিতে হবে, ‘ভুল’ রায় দিলে কৃতকার্যের জন্য শাস্তি অনিবার্য।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী যা বলেছেন তা নিয়েও অত্যন্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেছেন যে, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খলাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, সে জন্যই বিচারক বদলের অতিদ্রুত পদক্ষেপটি গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। অন্যদের আপত্তি এখানে যে, বিশৃঙ্খলা তো সৃষ্টি হতেই পারে, রায় যাদের পক্ষে যাবে না তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা অবশ্যই করবে, তবে সেটা তো দমন করতে হবে, দমন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে এবং সে বাহিনী যে এ কাজে অদক্ষ এটা কেউ বলবে না। প্রশ্ন উঠেছে যে, আইনমন্ত্রীর উক্তি কি এই বার্তাও দিচ্ছে না যে উপযুক্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হলেই আদালতের রায় বদলে যাবে? সে বিবেচনায় তো এটা উসকানির পর্যায়েই পড়বে। মন্ত্রী আরও বলেছেন যে, আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে ওই বিচারকের আচরণ ছিল রূঢ় ও অসঙ্গত। তা হলে কি কেবল রায় নয়, কীভাবে তা দেওয়া হচ্ছে, সেটাও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে?

বিচারব্যবস্থার ওপর এ দেশের অনাস্থার ইতিহাসটা অত্যন্ত পুরনো। তা আস্থার কারণও কিন্তু এখন ঘটছে না। পিরোজপুরের ঘটনা সে আস্থা বৃদ্ধি করল না। ওদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জব্দ করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার ঘটনাও নতুন নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধি পাওয়ার আগে কত যে মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন, বন্দি হয়েছেন এবং তার জীবনের কতটা সময় যে মিথ্যা মামলার কারণে কারাগারে কেটেছে, সে হিসাব তো আমাদের ইতিহাসের অন্তর্গত। এমন ঘটনা এখনো ঘটছে। হামেশাই। বরং আরও অধিক পরিমাণেই ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর ত্বকীকে স্থানীয় পাঠাগারে যাওয়ার পথে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে। এ নিয়ে তার পিতা আর কী করবেন, মামলাই করেছেন। সাত বছর হয়ে গেল মামলার তদন্তই শেষ হলো না। উপরন্তু ত্বকীর পিতাকে, স্থানীয় আওয়ামী নেতারা যাকে তাদের প্রতিপক্ষ বলে মনে করতেন এবং যাকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে সবার ধারণা, তারা তার বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন। ৭ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চ থেকে বিচারহীনতার সাত বছর নামে যে ধারণাপত্রটি উপস্থিত করা হয়, তাতে উল্লেখ আছে দেখছি ত্বকী হত্যাকা-ের জন্য যে পরিবারটিকে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয় তারা ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে নিজেদের লোকদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছে। মামলা দিয়ে হয়রানি করা ও আত্মরক্ষায় ব্যস্ত রাখার কারসাজি যে সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে।

২. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিল কাছেরই এলাকা লক্ষ্মীবাজার দিয়ে। তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেছে দুই যুবক। যুবকদ্বয় মোটরসাইকেলে করে এসেছে, থেমেছে এবং হামলা শেষে মোটরসাইকেলে চেপেই দিব্যি চলে গেছে। যেন ছিনতাইকারী। রাস্তায় লোক ছিল। না, কেউ এগিয়ে আসেনি। ঠিক এর বিপরীত ঘটনা ঘটেছে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার এক গ্রামে। সেখানে খালের ওপর ব্রিজ তৈরি করা নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ঝগড়া বাধে। ঠিকাদার কাজ থামিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে জনপনেরোর এক বাহিনী চলে আসে মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে। স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। ছাত্রলীগ কর্মীরা ঘেরাও হয়। মোটরসাইকেল চালিয়ে অন্যরা সরে পড়তে সমর্থ হয়, কিন্তু নেতা আটকা পড়ে এবং গণপিটুনিতে নিহত হয়। একই সময়ের দুটি বিরোধী প্রতিক্রিয়া। একটি উদাসীনতার, অন্যটি হিং¯্রতার। দুটোই এখন ঘটছে। দুটোই সত্য। কিন্তু এ দুটির কোনোটাই সুস্থ নয়। প্রতিক্রিয়া হওয়া প্রয়োজন সুসংগঠিত এবং বিদ্যমান অবস্থাকে বদলানোর জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। যেটা বলেছিলাম, ইতিহাস লিখতে হয় না, আপনা থেকেই লেখা হয়ে যায়। যেন আছড়ে পড়ে। কিন্তু ইতিহাস কোন দিকে যাবে?

যা-ই বলি না কেন, ইতিহাস তো কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। ইতিহাস মানুষই তৈরি করে। যদিও ইতিহাস তৈরি করতে হয় ইতিহাসের ভেতরে থেকেই। আসলে সারাবিশ্বের ইতিহাসটাই এখন একটা ক্রান্তিলগ্নে এসে পৌঁছেছে, যেখানে তাকে মোড় ঘুরতে হবে। হাজার হাজার বছর ধরে সম্পদের যে ব্যক্তিমালিকানা ব্যবস্থা চালু আছে, তাকে এখন মোড় বদলে সামাজিক মালিকানার দিকে যেতে হবে। শতকরা নব্বইজন মানুষ মেহনত করবে, শ্রম ও সময় দিয়ে চালু রাখবে উৎপাদনের ব্যবস্থাকে, আর তার মালিকানা থাকবে শতকরা দশজনের হাতে, এই অন্যায় পুঁজিবাদীব্যবস্থা আর চলবে না। বস্তুত এই ব্যবস্থাটা চালু আছে বলেই তো বিশ্বজুড়ে আজ এত অশান্তি। বস্তুগতভাবে বিশ্ব এখন উন্নতির চরম শীর্ষে সমুপস্থিত। কিন্তু এক করোনা ভাইরাস পৃথিবীকে আজ যেভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে, বিশ্বময় মানুষের পরস্পর বিচ্ছিন্নতাকে সাময়িকভাবে হলেও যে রকমের চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে, তাতে বোঝা যায় ভেতরে ভেতরে এবং মানুষের জন্য ব্যবস্থাটা এখন কতটা ভঙ্গুর ও বিপজ্জনক।

পৃথিবীটা নিশ্চয়ই ভাঙবে না। কারণ মানুষ তাকে ভাঙতে দেবে না। কিন্তু না ভাঙার জন্য অত্যাবশ্যকীয় যে মোড়-বদল, সেটা সম্ভব করার ব্যাপারে নেতৃত্ব দেবে কারা? দেবে তারাই যারা বিপদটা বুঝবে এবং বুঝবে যে এই বিপদ থেকে মুক্তির পথ পুঁজিবাদের ভেতরে আটকে থাকা নয়, উল্টো সেই বৃত্ত ভেঙে বের হয়ে যাওয়া, পথ ধরা সমাজতন্ত্রের। এক কথায়, নেতৃত্ব দেওয়ার কথা সমাজতন্ত্রীদেরই।

কাজটি অবশ্যই কঠিন। অত্যন্ত কঠিন। কারণ এ হচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা ও প্রায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া একটি বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন। পরিবর্তনের বস্তুগত শর্তগুলোর পূরণ ঘটছে। এতক্ষণ ধরে আমরা দেশের ভেতরে যেসব তুচ্ছ ও অসামাজিক ঘটনার দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির যে খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলাম, সেগুলো সবই কিন্তু অজান্তে পরিবর্তনের শর্তপূরণের কথাটাই জানিয়ে দিচ্ছে। এমন অবস্থা তো চলতে পারে না। কিন্তু আত্মগত প্রস্তুতি তো আবশ্যক। আত্মগত প্রস্তুতিটা কোনো এক দেশে নয়, চাই বিশ্বজুড়ে।

আন্দোলনের জন্য সচেতনতা ও সংগঠন চাই। আর সচেতনতা গড়ে উঠবে না এবং সংগঠন যদি বড়ও হয় তবু টিকবে না, যদি না সমাজ পরিবর্তনের অতিদৃঢ় অঙ্গীকার সৃষ্টি হয় জ্ঞানের অবিরাম সংগ্রহের ভেতর দিয়ে। যার কথা আমরা বলছিলাম। জ্ঞান কেবল গ্রন্থ থেকে আসবে না। আসবে জীবনের বাস্তবতা ও ইতিহাসের সঠিক পাঠ থেকে। বলাই বাহুল্য, ইতিহাসের সঠিক পাঠটা মোটেই জাতীয়তাবাদী হবে না, হবে সমাজতান্ত্রিক।

ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর আন্দোলনটাই যা ভরসা, নইলে হতাশ হওয়ার একশ-একটা কারণ রয়েছে। আর বিদ্যমান ব্যবস্থাটা চায় ওই হতাশা বৃদ্ধি পাক। চায় মানুষ বিভ্রান্ত হোক। বাড়–ক মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা। ইতিহাসের অগ্রগতিকে অবরুদ্ধকারী দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণ দাবি করছে। মুক্তিপণটা অন্য কিছু নয়, সেটি হচ্ছে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

ইতিহাসের অগ্রগতির কাহিনিটাও বর্তমানেই এবং বর্তমানের ভেতরেই লিখিত হচ্ছে। অবিরত।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement
Evaly
advertisement