advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়ক
সম্প্রসারণকাজের গতি মন্থর

গোপাল চন্দ্র রায় সৈয়দপুর
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০২:১৯
advertisement

ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে ধীরগতিসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে ধীরগতিতে চলছে নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কের উন্নয়নকাজ। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে কিনা এ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) আওতায় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সড়কটি সম্প্রসারণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। ২২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ১৫ কিলোমিটারের এই সড়কটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২ আগস্ট। এর আগে জেলা প্রশাসনের কাছে ৫৪ দশমিক ৬১৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এর মূল্য পরিশোধের জন্য ১০২ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে চেক হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে সড়কের ধার থেকে খুঁটি সরানোর জন্য চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগকে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর পরও অজ্ঞাত কারণে জমি অধিগ্রহণ ও খুঁটি সরানো কাজ চলছে মন্থর গতিতে।

সূত্রটি আরও জানায়, নীলফামারী জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত সড়কটি আগে প্রশস্ত ছিল ১৮ ফুট। বর্তমানে সেখান থেকে ৪২ ফুটে উন্নীত হবে এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে গ্লোরি সিরামিক পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও মেরামতে বরাদ্দ রয়েছে ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ অংশে যৌথভাবে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্স ও রানা বিল্ডার্স। অপরদিকে গ্লোরি সিরামিক থেকে সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত ৪৯ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার সড়কের কাজ করছে নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হুকুম দখল শাখা সূত্র জানায়, তারা এ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করেছে। এদিকে ভূমি অধিগ্রহণে অবকাঠামো ও ক্ষতিপূরণের জন্য ৭ ধারা নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে জিম্মি করে ২২ মাস অতিবাহিত হলেও ৮ ধারা নোটিশ প্রদানে গড়িমসি করছে হুকুম দখল শাখা। ফলে ৮ ধারা নোটিশ জারি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জমির মালিকরা। অধিগ্রহণকৃত জমির মালিক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জমির টাকা এখনো না পাওয়ায় বড়ই দুশ্চিন্তায় আছি। আসগর আলী নামে আরেক জমির মালিক বলেন, রাস্তার পাশেই আমার বাড়ি। এদিকে সড়ক প্রশস্তকরণে কাজ চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাড়ি ভাঙার জন্য কোনো অর্থ পাইনি। ফলে অনেকটা অনিশ্চতায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল করিম জানান, কার্যাদেশ প্রদানের ২২ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি। জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে এমনটি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ আগামী বছরের জুন মাসে কাজটি শেষ না হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম আইনানুযায়ী করতে হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ হলেও চলমান রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ফেজের জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসেই সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

advertisement
Evaly
advertisement