advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাবনায় পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে

সুশান্ত কুমার সরকার পাবনা
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০২:১৯
advertisement

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভারের শুরু থেকেই পাবনা পুলিশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণের মাধ্যমে করোনাযুদ্ধে প্রথম কাতারে শামিল হয়েছে। পাবনা জেলাকে করোনামুক্ত রাখতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। করোনাযুদ্ধে শামিল হয়ে পাবনার পুলিশ সুপারসহ জেলার ২২ জন পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ১৩ জন সুস্থ হয়েছেন। তা ছাড়া করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পাবনা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পাবনা পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর কর্মহীন হয়ে পড়া জেলার তিন সহস্রাধিক দরিদ্র অসহায় এবং মধ্যবিত্ত মানুষ, যারা লাইনে দাঁড়িয়ে সামাজিকভাবে লজ্জাবোধের কারণে সরকারি ত্রাণ নিতে পারেননি, ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রান্তসহ যে কোনো সহযোগিতায় পাবনা জেলা পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে আছে।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালীন এই দুর্যোগের মধ্যে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে পাবনা পুলিশ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি, পেশা, লিঙ্গ, সংস্কৃতি, অভিবাসন, অভিগমন ইত্যাদিকে বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা জনগণবান্ধব দায়িত্ব পালনে ব্রতী হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছানো এবং মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনের কাজে জেলা পুলিশ সহায়তা করে যাচ্ছে। সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই পাবনা জেলা পুলিশের সদস্যরা এসব সেবামূলক কর্মকা- অব্যাহত রেখেছেন। যেখানে রোগীর পাশে স্বজন বা প্রতিবেশীরা সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি, খবর পেলেই সেখানে ছুটে গেছেন পুলিশ সদস্যরা।

বেড়া উপজেলার আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। পরে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে তার করোনা পজিটিভ আসে। সাঁথিয়া উপজেলার সুম্মা খাতুন নামের এক নারীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বেড়া উপজেলার সাফুল্লাচরের মধ্যে অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত এক পুরুষকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাদের চিকিৎসা ও খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করে পুলিশ। এমন অনেক রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ।

এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেরাই সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ার পর তারা আবার জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করছেন। জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমের নম্বরে যে কোনো ব্যক্তি করোনাসংক্রান্ত যে কোনো তথ্য প্রদান করলে বা সহযোগিতা চাইলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পাবনা জেলার ১১টি উপজেলার প্রত্যেক এলাকায় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে। মোবাইল ডিউটি, চেকপোস্ট ও বিশেষ ডিউটি পার্টির মাধ্যমে জনসাধারণকে বুঝিয়ে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে পাবনার সব এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকা ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে চলাফেরা না করার জন্য প্রচার চালানো হয়েছে।

সেবামূলক কাজ করতে গিয়ে যাতে পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই ব্যাপকভাবে আক্রান্ত না হয়ে পড়েন, সেই লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পাবনা জেলা পুলিশেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশে কর্মরত সব সদস্যকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে মাক্স, গ্লাভস, পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হয়েছে। পুলিশের অফিস ও ব্যারাক জীবাণুমুক্ত রাখার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা সব সময়ই মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছি। জেলাকে করোনামুক্ত করতে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছি, এই কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তা হলেই করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব হবে।

advertisement
Evaly
advertisement