advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাওনা টাকা চাওয়ায় পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২০ ২০:৩৮ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ২০:৪৮
নিহত কুলসুমা বেগম। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

কক্সবাজারে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে কুলসুমা বেগম (৪০) নামে এক শ্রমজীবী নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ঋণগ্রহীতার পরিবারের লোকজন তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

আজ শনিবার ভোরে গুরুতর অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ কলাতলীর বড়মিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কুলসুমা কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কলাতলীর বড়মিয়া পাড়ার জোড়া হাম্বা এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম নুরুল আবছার (মৃত)। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের বড় ছেলে জাহেদুল ইসলাম সুমন জানান, জোড়া হাম্বা এলাকায় একটি জমির পাহারাদার হিসেবে কাজ করছিলেন তার মা। সেখানে বসবাসের সময় স্থানীয় রকিম আলীর পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। মাস তিনেক আগে বিপদের কথা বলে রকিম আলী ৩০ হাজার টাকা ধার চান কুলসুমা বেগমের কাছে। না থাকলে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে হলেও দিতে বলেন।

সুমন আরও জানান, এনজিও থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ এবং নিজের কানের দুল বন্ধক দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা যোগ করে মোট ২০ হাজার টাকা রকিম আলীকে দেন তার মা। কথা ছিল কিস্তি ও বন্ধকের সুদ রকিম আলী চালাবেন। কিন্তু ধার পাওয়ার পর থেকে ঋণগ্রহীতার পরিবারের লোকজনের আচরণ পাল্টে যায়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রকিমের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে বাড়ির কাছে পেয়ে টাকা ফেরতের কথা বলেন কুলসুমা। এতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ড হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতহাতি শুরু হয়। এর জের ধরে রকিম আলীর ছেলে হাবিব উল্লাহ ও আবদুল্লাহ এসে সুমনসহ তার ভাইবোনদের মারধর করে।

নিহতের ছেলে আরও জানান, ঘটনার পর রাতে খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ কুলসুমার মোবাইলে একটা কল আসে। তিনি ফোন ধরার পর রকিমের বাসায় যাচ্ছেন বলে বেরিয়ে যান। এরপর সারা রাত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভোর ৬টার দিকে রকিম আলীর বড় মেয়ে শাহেনা ফোন করে জানান, কুলসুমা সদর হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে মায়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন সুমন।

সুমন বলেন, ‘আমাদের মায়ের সারা শরীর এবং মুখে আঘাতে চিহ্ন। খবর পেয়েছি রকিম আলী আমার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শরীরে জখম দেখে হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ তথ্য নেওয়ার জন্য রকিম আলীকে তাদের কক্ষে যেতে বললে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।’

কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সদর থানার ওসিকে অবহিত করেছে নিহতের পরিবার। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement