advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অনলাইনে গরু কিনলেন তিন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২০ ২০:৫১ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ২৩:৫৩
অনলাইনে গরু কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ডিজিতাল হাট
advertisement

নভেল করোনাভাইরাসের মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটা আগে থেকেই অনেক বেড়েছে। আসন্ন মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ইদুক আজহার জন্য পশুও অনলাইনে তোলা হচ্ছে। এই কোরবানির পশু কেনাবেচার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনলেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে এই ডিজিটাল হাট।

আজ শনিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘ডিজিটাল হাট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই লাখ টাকার বেশি দামে গরু কেনেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কেনেন লাখ টাকার গরু।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এক লাখ টাকা দামের গরু পছন্দের কথা বললে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল ওয়েব পেইজ থেকে গরু দেখানো শুরু করেন।

কালো বা লাল রংয়ের গরু পছন্দ না হওয়ায় তাজুল ইসলাম সাদাকালো একটি দেশি ষাঁড় পছন্দ করেন। এক লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকার গরুর ভিডিও দেখে পছন্দ করে কেনার পর তাজুল ইসলাম মাংসের ২০ শতাংশ বাসায় দিয়ে বাকি মাংস ও চামড়া দান করে দিতে বলেন।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘পশুর দামের হাজারে ২৩০ টাকা কোরবানির খরচ। ২৩ শতাংশ যে চার্জ কসাইসহ অন্যান্য খরচ হবে, এখানে সিটি করপোরেশন কোনো খরচ নেবে না, হোম ডেলিভারিসহ।’ তাতেও রাজি হয়ে যান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

এক লাখ টাকা দামের গরু পছন্দ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ‘আজকের ডিল’ থেকে। লাল রংয়ের গরু কিনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির গরু কেনায় মুরুব্বিকে ক্রস করতে চাই না (স্থানীয় সরকার মন্ত্রী), মুরুব্বির নিচেই থাকতে চাই। প্রধান অতিথিকে ক্রস করতে চাই না, “গুরু মারার বিদ্যায়” আমি নেই।’ কোরবানির গরুর মাংসের তিন ভাগের একভাগ দান ও চামড়া দান করার ইচ্ছা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

‘ফুড ফর নেশন একশপ’ থেকে লাখ টাকায় গরু কেনেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাদাকালো রংয়ের গরু কিনে পলক বলেন, ‘ঈদে নিজ এলাকা চলনবিলের সিংড়ায় চলে যাব। এজন্য ঢাকায় কোরবানির গরু দান করে দিতে চাই।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গরু কেনার আগ্রহ দেখালেও যে সাইট থেকে তিনি গরু কিনবেন, তা আপডেট না থাকায় আর কেনা হয়নি। প্রায় দুই হাজার পশু কোরবানি এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় হোম ডেলিভারি দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ‘ডিজিটাল হাট’। প্রচলিত হাটে পশু কেনায় হাসিল দিতে হলেও এখানে কোনো হাসিল দিতে হবে না ক্রেতাদের।

হাটের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজিটাল বাজারে এবার কোরবানির পশু ক্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরাসরি হাটে না যেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনায় নতুন যাত্রা যোগ হবে। কষ্ট করে যে হাটে যাই, এটা আর করতে হবে না এটা নির্ভরশীল জায়গা হবে। আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির ব্যবস্থা থাকা উচিত।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

advertisement