advertisement
advertisement

চুরির অপবাদে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, পঞ্চায়েত নেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২০ ২২:৪৮ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ২২:৪৮
সংগৃহীত ছবি
advertisement

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কুরমা চা বাগান শাখার পঞ্চায়েত কমিটির সহসভাপতিকে আটক করেছে পুলিশ। মোবাইল চুরির অপবাদে দুই চা শ্রমিকের সন্তানদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল রাতে তাকে আটক করা হয়।

আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘মোবাইল চুরির অপবাদে দুটি শিশুকে মারধর করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কুরমা চা বাগান শাখার পঞ্চায়েত কমিটির সহসভাপতি সাহাদত হোসেন। তাকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যরা পলাতক আছেন।’

গতকাল শুক্রবার মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা বাগানের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সেখানে এলাকার ইউপি সদস্যসহ পঞ্চায়েত কমিটির নেতারা উপস্থিত থাকলেও সাহাদতসহ অন্যান্য নেতাদের ক্ষমতার ভয়ে ওই দুই শিশুকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে যায়নি।

নির্যাতনের শিকার জগৎ নুনিয়ার (১৩) মা সাবিত্রী নুনিয়া বলেন, ‘বিনা অপরাধে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। ইউপি সদস্য দীপেন সাহা, পঞ্চায়েতের সভাপতি নারদ পাশি, সহসভাপতি সাহাদত হোসেনসহ পঞ্চায়েত নেতারা তাদের পিটিয়েছেন।’

নির্যাতনের শিকার আরেক শিশু মুন্না পাশির (১২) বাবা গোপাল পাশি বলেন, ‘আমার ছেলে ও জগৎ নুনিয়াকে চুরির অপবাদ দিয়ে মামুন নামে বাগানের এক কর্মচারী, পঞ্চায়েত নারদ পাশিসহ অন্যরা বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে তাদের বাগানের নাচ ঘরে বেঁধে মারধর করে। তাদের দুজনকে গাছের সঙ্গে ফ্যাক্টরির সামনে পেছনে হাত নিয়ে বেঁধে রাখে। তারা চুরি করেনি জানালে তাদের বেধড়ক পেটায় পঞ্চায়েতের লোকজন। ভয়ে কেউ তাদের রক্ষা করতে আসেনি। প্রায় ৪ ঘণ্টা তাদের বেঁধে রাখা হয়।’

নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেছেন দুই শিশুর পরিবার।

এদিকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন ইউপি সদস্য দীপেন সাহা ও চা বাগানের ম্যানেজার শফিকুর রহমান। দীপেন বলেন, ‘তাদের বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে, ম্যানেজারের কথায় তিনি ছাড়তে পারেননি।’ শিশু দুটিকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি শফিকুর রহমানের।

advertisement