advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগীদের আলাদা করার তাগিদ : ফি আরোপে করোনা পরীক্ষা ও রোগী দুটোই কমছে

আহমদুল হাসান আসিক
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১২
advertisement

কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ফি আরোপ করার পরবর্তী ১৪ দিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি রোগী শনাক্তও কমছে। ফি আরোপের পর গত ১৩ দিনে (২৯ জুন থেকে ১১ জুলাই) নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৪৩১ জনের। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৩২০ জন। ফি নির্ধারণের আগের ১৩ দিনে (১৬ জুন থেকে ২৮ জুন) নমুনা পরীক্ষা হয় এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৮০ জনের। রোগী শনাক্ত হয় ৪৩ হাজার ৩০৬ জন। অর্থাৎ ফি নিয়ে পরীক্ষা শুরুর আগের ১৩ দিনের তুলনায় পরের ১৩ দিনে নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে ১৫ হাজার ৪৯টি এবং রোগী শনাক্ত কমেছে ৩ হাজার ৯৮৬।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো (ইলনেস লাইক ইনফ্লুয়েঞ্জা বা আইএলআই) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে পরীক্ষার আওতায় আনা উচিত। শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ, জ্বর, কফ থাকলে তাকে আইএলআই বলা যায়। আইএলআই উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা সম্ভব না হলে তাদের আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে পরীক্ষায় ফি আরোপ এবং রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ার কারণে করোনার উপসর্গ থাকলেও এখন অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না। বেসরকারি পর্যায়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান করোনার পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দিয়েছে এমন খবরেও নিরুৎসাহিত হচ্ছে অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অনেক রোগী শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংক্রমণের শুরুর দিকে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ করতে না পারার কারণে করোনা ধীরে ধীরে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সারাদেশেই ব্যাপক মাত্রায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের উপায় হচ্ছে করোনা রোগীদের শনাক্ত করে আলাদা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সেটি করা না গেলে জরুরি ভিত্তিতে আইএলআই উপগর্স আছে এমন রোগীদের শনাক্ত করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, যেখানে রেড জোন সেখানে গুছিয়ে কাজ হচ্ছে। সেখানে আইইডিসিআরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজগুলো হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তিনি আরও বলেন, যারা করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হচ্ছেন, তাদের ফলোআপ যদি না করা হয়, তাদের আইসোলেশনে যদি না নেওয়া হয় তবে পরীক্ষার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

ডা. মুশতাক বলেন, এখন স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত ঘরে ঘরে খোঁজ নিয়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করা। তাদের পরীক্ষার আওতায় আনতে না পারলেও যারা জ্বরের রোগী তাদের আইসোলেশনে নেওয়া উচিত। কারণ করোনার সংক্রমণ আপনা-আপনি কমবে না। সংক্রমণ রোধে এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের বিষয়ে আমরা আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছি। সাধারণ মানুষ যেন ফ্রি পরীক্ষা করাতে পারে। কারণ জনগণ উৎসাহিত হয়ে পরীক্ষা করালে সংক্রমণের সঠিক চিত্র উঠে আসবে। কিন্তু সরকার ফি নির্ধারণ করার পর অনেকেই স্বেচ্ছায় পরীক্ষা করতে আসছে না। এখন পরীক্ষা কমার মূল কারণ হলো ফি নির্ধারণ করা। এর সঙ্গে সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক নেই। সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি ছিল এখনো সেটাই আছে। এখনো নমুনা পরীক্ষার ২০-২২ শতাংশ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সুতরাং সংক্রমণ কমেনি।

advertisement
Evaly
advertisement