advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনায় উৎসবের অর্থনীতিতে ভাটা

লেনদেন কম হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার

গোলাম রাব্বানী
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৩
advertisement

দেশের গ্রামীণ তথা সার্বিক অর্থনীতি মূল উৎসবকেন্দ্রিক। পহেলা বৈশাখ ও ঈদের উৎসবেই যেন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির অর্ধেক লেনদেন হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লকডাউন থাকায় উৎসবে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। অর্থনীতির জোগান দেওয়া পণ্য এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার প্রভাবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার উৎসবকেন্দ্রিক লেনদেন কম হয়েছে।

গত মার্চ মাসে লকডাউন দেওয়ার পর সর্বপ্রথম উৎসবে বাধা আসে পহেলা বৈশাখের ওপর। ১৯৭১ সালের পর ৪৯ বছর পরে মানুষ ঘরবন্দি থেকে এ উৎসব পালন করে। দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্যাশন হাউসগুলো পহেলা বৈশাখে বেশি বিক্রি হয়। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা পহেলা বৈশাখ সামনে রেখেই বিভিন্ন পণ্যের পসরা নিয়ে বসে। তবে লকডাউনের কারণে সম্পূর্ণ ঘরে বসেই এ উৎসবে নির্বিকার থাকতে হয়েছে জনসাধারণের। পহেলা বৈশাখে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি পুরোপুরি স্থবির ছিল।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, এবার উৎসবে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা অর্থনীতি নেই। শুধু বাঁচার তাগিদে অর্থনীতি। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে বেঁচে থাকাও দায়।

গত বছরে রমজানের ঈদে ৬০ হাজার কোটি টাকার পোশাক কেনাকাটা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে করোনার প্রভাবে মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় এ খাতে। ফলে পোশাক কেনাকাটা বাবদ ৫৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ইলেকট্রনিকস, ভ্রমণসহ নানা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা কম লেনদেন হয়েছে চলতি রমজানের ঈদে।

উৎসবের অর্থনীতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সরবারহ হয় কোরবানির ঈদে। গত বছর কোরবানির ঈদে শুধু পশু কেনাবাবদই লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া চামড়া খাতেও লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরে করোনা ভাইরাসের কারণে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লেনদেন কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ১৫ হাজার কোটি টাকার কোরবানি পশুভিত্তিক লেনদেন কমে যাবে। এ ছাড়া চামড়া খাতে ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন কম হবে। এরই সঙ্গে ঈদেও পোশাক খাতেও লেনদেন অন্য সময়ের চেয়ে কম হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবারের উৎসবগুলো আমাদের অর্থনীতির জন্য নিরাশার। যদিও সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে অল্প সংখ্যক দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে খুবই সীমিত পর্যায়ে। ঈদ ঘিরে ইতোমধ্যে যে বিনিয়োগ হয়েছে তাও উঠে আসবে না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ঈদ ঘিরে অর্থনীতি ব্যবস্থাকে সচল করতে গিয়ে আমরা স্বাস্থ্য খাতকেও ঝুঁকিতে ফেলেছি। ব্যবসায়ীদের মতে সারা বছরের অর্ধেক ব্যবসাই হয়ে থাকে এই ঈদে। সেটি এ বছর হবে না। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা যারা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা করছে তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement