advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অফিস স্পেস কেনায় অনিয়ম মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের

আবু আলী
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ১২:০৪
advertisement

অফিস স্পেস কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রকৃত মূল্য গোপন করে ৪ কোটি টাকা বেশি দেখিয়েছে তারা। রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি ভবনে তিনটি গাড়ি পার্কিং স্পেসসহ ১০ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর কিনতে এই পরিমাণ অর্থ বেশি দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ) অভিযোগ দাখিল করেছেন নূরানী গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া হোসেন চৌধুরী। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করেছে আইডিআরএ।

এ বিষয়ে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিসি) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক আমাদের সময়কে বলেন, ঘটনাটি অনেক আগের। আর আমি এখানে যোগদান করেছি চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এ কারণে বিষয়টি সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই। বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত জানা নেই।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, আমি যতদূর জানি মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা অগ্রসর হওয়া যায়নি। প্রতিবেদন তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৩ জুলাই ‘প্রীতম জামান টাওয়ার’ নামের ভবনের পঞ্চম তলায় ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস ও তিনটি গাড়ি পার্কিং স্পেস কেনার জন্য পাইওনিয়ার বিল্ডার্স লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। ওই চুক্তিপত্রে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১১ কোটি ১২ লাখ টাকা। যেখানে প্রতিবর্গফুটের মূল্য ১১ হাজার টাকা হিসেবে ১১ কোটি টাকা এবং তিনটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রতিটির মূল্য ৪ লাখ টাকা হিসেবে ১২ লাখ টাকা। মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের পক্ষে ওই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তালুকদার মো. জাকারিয়া হোসেন। পাইওনিয়ার বিল্ডার্সের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবু সঞ্জিত কুমার দাস। এই চুক্তির সাক্ষী ছিলেন মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমজিএ মামুন এবং পাইওনিয়ার বিল্ডার্সের অসিত কুমার দাস ও ফারুখ হোসেন।

এদিকে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ৭৮ নম্বর পৃষ্ঠায় অ্যাডভান্স, ডিপোজিট ও প্রিপেমেন্টস সংক্রান্ত ১৯ নম্বর নোটের শুরুতেই অফিস স্পেস কেনার জন্য অগ্রিম বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এই নোটের ব্যাখ্যায় বলা

হয়েছে, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতম জামান টাওয়ার, ৩৭/২, পুরানা পল্টন, ঢাকার ৫ম তলায় ১০ হাজার বর্গফুটের অফিস ও তিনটি গাড়ি পার্কিং কেনার জন্য পাইওনিয়ার বিল্ডার্স লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেছে। এর মূল্য ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সম্পাদিত চুক্তিপত্রে নির্ধারিত জমির মূল্যের চেয়ে ৪ কোটি টাকা বেশি দেখানো হয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে। এ ছাড়াও ওই আর্থিক প্রতিবেদনে জমি ক্রয়ের চুক্তিপত্র সম্পাদনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। অথচ চুক্তিপত্রটি সম্পাদিত হয়েছে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই।

 

advertisement
Evaly
advertisement