advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

ব্যয়ের আধিক্যে আয়ের গতি উল্টোপথে : রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৮৫ হাজার কোটি টাকা

আব্দুল্লাহ কাফি
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৩
advertisement

করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকা- থমকে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় ৩ মাস বন্ধ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মানুষের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। প্রথমবারের মতো দেশের রাজস্ব আদায় কমে গেছে। এর আগে কখনই রাজস্ব আদায়ের আগের তুলনায় কমেনি। করোনার সংক্রমণের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের যখন কর্মসংস্থানে সৃষ্টিতে বিনিয়োগ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থ খরচ বাড়ানো প্রয়োজন সেই সময়ে রাজস্ব আদায় কমে গেল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ’৭২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গঠনের পর প্রথমবারের মতো রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এটি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা কম।

গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সাময়িক তথ্যে দেখা গেছে, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। আর প্রবৃদ্ধির হিসেবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। করোনা পরিস্থিতির কারণে যা পরবর্তী সময়ে সংশোধন করে ৩ লাখ ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ভ্যাট খাতে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। এর পরের অবস্থানে আছে আয়কর, ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আর শুল্ক খাতে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

অবশ্য রাজস্ব আদায়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বুঝতে পেরে আগেই অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। গত ১৪ মে অর্থসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আহরিত সর্বমোট রাজস্ব দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকার বিপরীতে চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের শেষে সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা আহরিত হতে পারে, যা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা কম। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম পূর্ববর্তী বছরের তুলনায়

কম আহরণ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ কোটি, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে বছরের শেষ দিকে এসে তা কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করা হলেও বছর শেষে আদায় হয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ১৮ শতাংশ। এর আগের চার বছরে বছরের শুরুতে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা শেষদিকে এসে কমিয়ে আনা হতো। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশ।

advertisement
Evaly
advertisement