advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোকাবিলায় সর্বাত্মক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য : ১০ দিনের মাথায় আবারও বন্যা

১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৩
advertisement

প্রতিবছরই বন্যা হতে পারে। কোনো বছর বেশি মাত্রায়, কোনো বছর কিছুটা কম। কোনো বছর কিছুটা আগে, কোনো বছর কিছুটা দেরিতে আসে। আবার কোনো কোনো বছর একাধিকবার। গতকাল আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়Ñ ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে টানা ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিবর্ষণ হয়েছে সুনামগঞ্জেও। এর ফলে জেলার নদী তীরবর্তী এলাকা ও হাওরাঞ্চলে মাত্র ১০ দিনের মাথায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। এ ছাড়া তিস্তার পানি বাড়ার ফলে লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ফের পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। দফায় দফায় বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নদীতীরের মানুষগুলো। যমুনা নদীর পানি টানা ৯ দিন কমতে থাকার পর সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজিপুর পয়েন্টে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। তবে পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বাড়ছে টাঙ্গাইলেও। নদীর পানি বাড়লেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে করোনা দুর্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বন্যা নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার নদী তীরবর্তী মানুষ। এ ছাড়া ঈদুল আজহা সামনে। এ সময় আবার বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। অনেক জায়গায় যেমন ত্রাণ পৌঁছায়নি, আবার বানভাসি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গত কারণেই এ বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকার দিকে দৃষ্টি দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। বন্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বার্ষিক ঘটনা। তাই এ অবস্থা উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ যেমন নিতে হবে, তেমনি বন্যার তাৎক্ষণিক আঘাত থেকে বাঁচার জন্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সংস্থান করবে সরকার। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসেবাও দিতে হবে। বন্যার শিকার হওয়ার শঙ্কায় থাকা এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সামগ্রিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। আশা করি, সরকার ও প্রশাসন এ বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

advertisement