advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ভ্যাকসিন কতটা দূরে

অনিক আহমেদ
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০১:৪৬
advertisement

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) খুব সহজে এবং আপনা-আপনি বিদায় নেবে এমনটা পৃথিবীর কেউ বিশ্বাস করে না। পৃথিবীর মানুষের কাছে করোনা ভাইরাসের প্রথম আগমন চীনের মাটিতে ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। ২০২০ সালের শুরু থেকেই করোনার যাত্রা শুরু হয় পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে। ভাইরাসটি ধীরে ধীরে ছেয়ে যায় এক এক করে ২১৮টি দেশে। নাজেহাল করে রাখে মানুষের জীবন-জীবিকা।

আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল দেখতে পায় পুরো দুনিয়া। বাংলাদেশও তা থেকে দূরে থাকে না। বরং আক্রান্তের হিসাবে বড় ধরনের ঝুঁকি বহন করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে ব্যাপকতা একটু কমলেও বাংলাদেশে এর ব্যাপকতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সংক্রমণ যেখানে একটু কমছে, সেখানেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কোথাও হয়তো একটু কমছে, কোথাও হয়তো একটু বাড়ছে- কিন্তু করোনা তার জায়গাতে বহাল-তবিয়তেই আছে।

বিজ্ঞানীরা এবং সাধারণ মানুষ একটি বিষয়ে একমত পোষণ করেন যে, করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য এ সময়ে সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলো ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কার করা। ভ্যাকসিন ছাড়া এই মহামারী থেকে স¤পূর্ণভাবে কিংবা কার্যকরভাবে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই মহামারী রোগের কোথাও এখন পর্যন্ত অন্য কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের মহাযজ্ঞ চলছে পৃথিবীব অনেক দেশে, অনেক বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিচ্ছে- কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং বাজারজাতকরণের আগে মানুষকে সাবধানে রেখে করোনার ছোবলকে যতটা পারা যায় ঠেকিয়ে রাখতে হবে।

একজন মানুষ মাস্ক পরে, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এবং অন্য মানুষ থেকে শারীরিকভাবে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে করোনার সংক্রমণ হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। সবার ভরসাÑ এই তিনটি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে করোনাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারলে সবাইকে রক্ষা করার জন্য অবশ্যই একদিন ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে আসবে। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না।

তাকে পৌঁছে দিতে হবে প্রতিটি দেশের মানুষের কাছে। তার পরও প্রশ্ন থাকবেÑ একটি ভ্যাকসিন মানুষকে কতদিন আক্রান্ত থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হবে। সাধারণত ভ্যাকসিনের মেয়াদ থাকে এক বছর পর্যন্ত। তাই সে ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনটি প্রতিবছরই পৃথিবীর সব মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। অর্থাৎ প্রতিবছরই ভ্যাকসিন উৎপাদনের ব্যবস্থাটি চলমান থাকবে, যে পর্যন্ত করোনা তার নিজ গুণে আমাদের ছেড়ে চলে না যায়। একটি আশার কথা, ভ্যাকসিন হয়তো সবার জন্য প্রয়োজন না-ও হতে পারে। সুস্থ-সবল কম বয়সী মানুষ হয়তো ভ্যাকসিন ছাড়াই করোনা আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। ভ্যাকসিন বিশেষভাবে প্রয়োজন অধিকতর বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ কিংবা দুর্বল লোকদের জন্য।

পৃথিবীজুড়ে এখন চলছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতা। বেশ কয়েকটি দেশ, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকেন্দ্র ইতোমধ্যেই এ নিয়ে গবেষণায় অনেকখানি অগ্রগতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিষয়টি যেহেতু নতুন ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং তৈরি করা, তাই এর অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি লম্বা সময় ধরে মোট তিনটি স্তর অতিক্রম করে যেতে হয়।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করে আবিষ্কারক। তবে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে যেহেতু সারা বিশ্ব আক্রান্ত হয়েছে এবং ভয়াবহ মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে মানুষের গড়া সভ্যতা, কাজেই একটু তাড়াতাড়িই স্তরগুলো অতিক্রম করতে পারছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতোমধ্যেই কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তৃতীয় স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। এখানে স্তরগুলো বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন বোধ করছি। প্রথম স্তরটি শুরুর পরীক্ষা।

অল্পসংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়ে এই স্তরটি স¤পন্ন করা হয়। এই স্তরে ভ্যাকসিনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা এবং একজন রোগীর জন্য কতটুকু ডোজ প্রয়োজন তা নির্ধারিত হয়। দ্বিতীয় স্তরে কয়েকশ আক্রান্ত রোগীর ওপর পরীক্ষা করা হয়। এখানে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ ক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করা হয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা প্রথম স্তরে বোঝা যায়নি তা-ও পরীক্ষা করা হয়। তৃতীয় স্তরটি অনেক বড় পরিসরে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। কয়েক হাজার আক্রান্ত রোগীর ওপর এই স্তরে পরীক্ষা পরিচালিত হয়। এই স্তরটি দীর্ঘসময় ধরে চলার কথা। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই স্তরে বিজ্ঞানীরা এক থেকে চার বছর সময় ব্যয় করে। এই স্তরে সুস্পষ্ট করে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

যদিও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে এবং এর মধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেতে সমর্থ হয়েছে। এই ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চীনের উহান ইনস্টিটিউট, বেইজিং ইনস্টিটিউট, সিনোভ্যাক, জেনেক্সিন, গ্যামেলিয়া গবেষণা, ক্যানসিনো, নোভাভ্যাক্স, বায়ো-এনটেক, ইনোভিউ ফার্মাসিউটিক্যালস, ক্লোভার বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, এনহুই ঝিফেই লংগকম, মডার্না, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সবচেয়ে অগ্রসর ভূমিকায় আছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ওষুধ প্রস্তুতকারী কো¤পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গত এপ্রিল মাসে ৫০০ জন আক্রান্ত অংশকারীর মধ্যে তাদের প্রথম স্তরের টেস্টটি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয় বানরের ওপর ভ্যাকসিন ব্যবহার করে সফলতা লাভ করে।

তৃতীয় স্তরে পৌঁছে গিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কো¤পানি ব্রাজিলের সঙ্গে ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে এই ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ১২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি ইতোমধ্যে স¤পাদন করেছে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিভাগ ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে, তারা মোট ৩০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করবে; যার অর্ধেক হবে ২০২০-এর ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাকি অর্ধেকটা হবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তিনটি ওষুধ কো¤পানিকে তাদের তৃতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অনুদানের জন্য নির্বাচিত করেছে। তারা জুলাই মাসে অনুদান প্রদান করবে মডার্নাকে, আগস্ট মাসে করবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে এবং সেপ্টেম্বরে করবে ফাইজার কো¤পানিকে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা দলটি এর আগে ‘মার্স’ নামের ভাইরাসের ওপর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করেছিলেন। এবার সেই গবেষণা তারা আরও এগিয়ে নিয়ে যান এবং করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিনরূপে রূপান্তরিত করেন। দ্বিতীয় স্তরে তারা ১৮-৫৪ বছর বয়সী ১ হাজার ৯০ জন আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর গবেষণা পরিচালনা করেন। তারা এই পর্যায়ে ৪টি ধাপে চারবার ভ্যাকসিন প্রদানের চিন্তা করেন। পরপর দুবার সিঙ্গেল ডোজ পাওয়ার পর আক্রান্তকারীরা তৃতীয় ডোজ পাওয়ার ৪ সপ্তাহ পর বোস্টার ডোজ লাভ করে। ইতোমধ্যে সাউথ আফ্রিকার উইটওয়াটারস্ট্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। সাউথ আফ্রিকাতে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। তারা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তাদের দেশে আক্রান্তকারীদের ওপর পরীক্ষা পরিচালনা করছে। সাউথ আফ্রিকার হেল্থ প্রডাক্টস রেগুলেটরি অথরিটি তাদের দেশে এই পরীক্ষাকে স্বাগত জানিয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় স্তরে টার্গেট ১০ হাজার আক্রান্তকারীর মধ্যে ৪ হাজার আক্রান্তকারীর ওপর যথারীতি কাজ শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাজিলে ৩ হাজার আক্রান্তকারীর ওপর এই পরীক্ষা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অবশিষ্ট অংশ তারা সাউথ আফ্রিকাতে পরিচালনা করার আশা রাখছে। ২০২০ সালের ২১ মে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ঘোষণা দেয় যে, তারা বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বারডা) কাছ থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ভ্যাকসিনটি বাজারজাত করার আশা রাখে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলটি আশা করে, তারা বিভিন্ন বয়সের ১০ হাজার লোকের ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষা স¤পন্ন করতে সক্ষম হবে। তৃতীয় স্তরের পরীক্ষা করার জন্য তারা অপারেশন র‌্যাপ স্পিড থেকে ফান্ড গ্রহণ করে।

ভ্যাকসিন গবেষণার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না। মডার্না ড্রাগমেকার ক্যাটালেন্টের সঙ্গে পার্টনারশিপের চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাটালেন্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গেও পার্টনারশিপের চুক্তি স¤পাদন করেছে। বর্তমানে মডার্না দ্বিতীয় স্তর শেষ করে তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করেছে। তারা আশা করছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যে তাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসতে পারবে। আগামী মাস থেকে তারা ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে।

সবকিছু ঠিকঠাক মতো এগিয়ে গেলে আমরা এই মুহূর্তে আশা করতেই পারি যে, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাস্টাজেনেকার যৌথ উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না খুব শিগগিরই আমাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সংবাদ নিয়ে আসবে। তার জন্য আর খুব বেশি বিলম্ব করতে হবে না। এ বছরের শেষের দিকেই এই শুভ সংবাদটি পৃথিবীর মানুষকে অনেক বড় প্রশান্তির জায়গা উপহার দিতে পারে। এমনটি হলে আমরা অন্তত একটু আশ্বস্ত হতে পারব যে, করোনাকে ঠেকাতে আমাদের ভ্যাকসিন আছে। তবে প্রতিটি দেশের সরকারকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, এবারের ভ্যাকসিনের প্রয়োজন কোনো বিশেষ দেশের জন্য নয়Ñ এটির প্রয়োজনীয়তা আছে ২১৮টি দেশের সবারই এবং প্রতিটি দেশের সব মানুষের জন্য না লাগলেও অধিকাংশ মানুষের জন্যই ভ্যাকসিনের ব্যবহার আবশ্যকীয়। ভ্যাকসিনের অনুমোদন লাভের পর তার প্রস্তুত ও সরবরাহের বিষয়টি আরও একটি মহাযজ্ঞ বিষয় হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ২১৮টি দেশের জন্যই তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রয়োজন পড়বে। তাই ভ্যাকসিন আবিষ্কার, বাজারজাতকরণ, সরবরাহকরণ এবং নিজ নিজ দেশের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিটি নাগরিকের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার কাজটি হবে আরও একটি বিশাল কর্মকা-।

জুলাই মাস চলছে। ভ্যাকসিনটি এখনো চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি। আমাদের অনুমান ও বিশ্বাসÑ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষাটি শেষ হবে। যদি ধরে নিই, এ বছরের মধ্যেই অনুমোদনের কাজটি স¤পন্ন হবেÑ তার পরও ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য গ্রামে গ্রামে পৌঁছাতে আরও একটু সময় লাগবে। বাংলাদেশে বর্তমানে আক্রান্তের মাত্রা বাড়ছে, মৃত্যু বাড়ছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। এ দেশের মানুষকে এ বছরের শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে হবে। ভ্যাকসিন প্রদানের আগ পর্যন্ত তাকে বেঁচে থাকতে হবে। যারা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার কাজটি করছেন, তারা দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করছেন। বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করা হচ্ছে এই গবেষণায়। তাদের কাজ তারা করছেন। এখন আপনার পালা। আপনাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বটুকু আপনার নিজের। আপনি যদি মাস্ক পরিধান করেন, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেন এবং শারীরিকভাবে অন্য মানুষের সঙ্গে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখেন তা হলে আপনি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন। অনেক বড় প্রশ্ন হলোÑ আপনি তা করবেন কি?

 

মেজর (অব) সুধীর সাহা : কলাম লেখক

advertisement