advertisement
advertisement

দেশি পশুতেই কোরবানি দিতে পারবেন বগুড়াবাসী

প্রদীপ মোহন্ত বগুড়া
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

আগামী ১ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা হতে পারে। সম্ভাব্য এই দিনকে সামনে রেখে কোরবানি পশুর বেচাকেনা জমে উঠেছে বগুড়ায়। এ জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট পড়বে না। দেশীয় পশুতেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারবেন বগুড়াবাসী এমনটাই দাবি প্রাণিসম্পদ বিভাগের।

প্রায় প্রতিবছরই কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যক্তিপর্যায়ে ও খামারিরা গবাদিপশু লালনপালন করে থাকেন। বাড়তি লাভের আশায় কেউ তিন মাস আবার অনেকেই ছয় মাস অথবা এক বছর আগে থেকে গবাদি পশু পালন শুরু করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু করোনাকালে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত আছেন খামারি ও ব্যাপারিরা।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এরই মধ্যে খামারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে কোরবানিযোগ্য করে তোলা হয়েছে প্রায় পৌনে ৪ লাখ গবাদিপশু। প্রায় ৪১ হাজার খামারিসহ ব্যক্তিপর্যায়ে বাসাবাড়িতে এসব পশু পালন করা হচ্ছে।

বগুড়ায় ইতোমধ্যে এসব পশু বিক্রির জন্য জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে তোলা হচ্ছে। দামদরে মিলে গেলে বিক্রিও হচ্ছে। জেলার বাইরের ব্যাপারিরাও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার বাইরের জেলার পশুও এ জেলার ব্যাপারিরা কিনে আনছেন।

এদিকে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার রোধে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খামারি ও পশুপালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপবতর কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জেলার ১২টি উপজেলার ৪০ হাজার ৮০৯ জন খামারি মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭৭টি গবাদিপশু কোরবানিযোগ্য করে তুলেছেন। এ পশুগুলোর মধ্যে গরু (ষাঁড়, বদল ও গাভী) ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৫২টি, মহিষ ২ হাজার ৮১৩টি, ছাগল ১ লাখ ৩ হাজার ২৫২টি এবং ভেড়া ১৯ হাজার ৬৬০টি। গত ঈদে এ জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পশু জবাই করা হয়।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার খামারি শাহীন মিয়া জানান, গত কয়েক বছরে ভারতীয় গরু কম সরবরাহের কারণে জেলায় দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা বেড়ে যায়। গত বছরের চাহিদা মাথায় রেখে খামারিদের মাঝে এবার গরু পালনের ইচ্ছেও বেড়ে যায়। কিন্তু করোনাকালে সঠিক দাম পাওয়ার বিষয় নিয়ে চিন্তায় আছে সবাই।

বগুড়ার সদরের খামারি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তার খামারে আটটি গরু পালন করা হয়েছে। দেশীয় ঘাস, খড়, খৈল, খুদগুঁড়া খাবার দিয়ে পালন করা হয়েছে। গরুগুলো কোরবানিদাতাদের খুব পছন্দ হবে। এগুলো শৌখিনভাবে পালন করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, জেলার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাবে। আবার বিভিন্ন জেলার পশুও এ জেলায় আসবে। তাই ঈদে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না।

তিনি জানান, বগুড়ায় গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে খামারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে কেউ যেন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করেন সে জন্য ইতিপূর্বেই প্রচার শুরু হয়েছে। হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বগুড়ায় স্থায়ী হাট রয়েছে প্রায় ৩৮টি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্থায়ী হাটসহ প্রায় ৫০-৬০টির মতো পশুর হাট বসে। এসব হাটে কোরবানিযোগ্য পশুগুলো বিক্রির জন্য তোলা হবে।

উল্লেখযোগ্য হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার মহাস্থানগড় গরুর হাট। এই হাটের সঙ্গে ঘোড়াধাপ, সুলতানগঞ্জ হাট, শেরপুর হাট, সাবগ্রাম হাট, পেরী হাট, নামুজাসহ এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার ধাপের হাট বিখ্যাত। ইতোমধ্যে স্থায়ীসহ অস্থায়ী হাটে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement