advertisement
advertisement

চাঁদপুরে ভবনে ভবনে ঝুলছে টু-লেট!

এম এ লতিফ চাঁদপুর
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে কিংবা সন্তান মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে সবুজ-শ্যামল গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইট-পাথরের শহরে। আবার কেউবা জীবিকার টানে পরিবর্তন করেন ঠিকানা। কিন্তু মহামারী করোনা পাল্টে দিয়েছে স্বপ্ন শহরের চিত্র। করোনার প্রভাবে আর্থিক টানাপড়েনে সেই মানুষগুলোই শহর ছেড়ে পাড়ি দিচ্ছেন গ্রামে। আয় রোজগার কমে যাওয়ায় সময়মতো বাসা ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে না পারায় বাধ্য হয়েই গ্রামে ছুটছেন তারা। এ যেন চলো গ্রামে ফিরে যাইয়ের জোয়ার। তাই তো চাঁদপুর শহরের ভবনে ভবনে ঝুলছে টু-লেট। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন বাড়ির মালিকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অগণন মানুষ। কমে গেছে কিংবা বন্ধ হয়ে আছে আয়-রোজগার। আর এতে শহরের ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়ছে বহু পরিবার। তাই গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন অগণন মানুষ। চাঁদপুর শহরের প্রফেসরপাড়া, মমিনপাড়া, গুয়াখোলা, কোড়ালিয়া রোড, নাজিরপাড়া, ব্যাংক কলোনি ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ বাসায় ভাড়া দেওয়ার লিফলেট টু-লেট টাঙানো। তবে তুলনামূলক হারে ছোট ছোট বাসাই বেশি খালি হয়ে পড়েছে। শহরের অধিকাংশ এলাকার একই অবস্থা।

প্রফেসর পাড়ার ইনসাফ ভিলায় ভাড়া থাকতেন খাদিজা বেগম। প্রায় ৪ বছর ছেলেমেয়ে নিয়ে এ বাসায় ছিলেন। বাড়ি ফরিদগঞ্জ। স্বামী সৌদি প্রবাসী। বড় মেয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে ২য় শ্রেণিতে। সৌদি আরবে স্বামীর আগের মতো ইনকাম নেই। করোনার কারণে তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

এমন আরেকজন রোকেয়া বেগম। থাকেন প্রফেসরপাড়া পাটোয়ারী ভিলায়। স্বামী দুবাই প্রবাসী। তিন সন্তান নিয়ে আট বছর ধরে চাঁদপুর শহরে বসবাস করছেন। গ্রামের বাড়ি মতলব দক্ষিণে। মূলত ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্যই শহরে আসা। কিন্তু করোনার প্রভাবে এখন বাসা ভাড়া দেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই তিনিও সন্তানদের নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। তাদের মতো আরও অসংখ্য ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন এবং এখনো অনেকেই যাচ্ছেন।

শহরের প্রফেসরপাড়া নিবাসী পাটোয়ারী ভিলার স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহজাহান পাটোয়ারী জানান, মহামারী করোনার প্রভাবে তার বাসার কয়েকটি ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে। বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া ছিল প্রবাসীর পরিবার। ছেলেমেয়ে শহরের স্কুলে পড়াশোনা করানোর জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ এবং প্রবাসেও কাজকাম না থাকায় আয়ের উৎস কমে গেছে। এজন্য আমার ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন।

শহরের আরও একাধিক বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বললেÑ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মালিক জানান, জীবনের যেটুকু সঞ্চয় ছিল তা দিয়ে কোনমতে শহরে একটু জায়গা কিনেছি। জায়গা কেনার পর বাড়ি করার টাকা ছিল না। তাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছি। ভাড়াটিয়া ছিল। মাস শেষে টাকা আসত। তা থেকে ব্যাংক ঋণ শোধ করতাম। এখন ভাড়াটিয়া নেই, বাসা খালি পড়ে আছে। তাই আয় কমে গেছে। এখন নিয়মিত ব্যাংকের কিস্তি শোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, সারাদেশেই একই অবস্থা। করোনকালে সামাজিক দৃশ্যপট অনেকখানিই পাল্টে গেছে।

advertisement
Evaly
advertisement