advertisement
advertisement

মানবিকতায় মুগ্ধ সিরাজগঞ্জের মানুষ

আমিনুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। এই মহামারী প্রতিরোধে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছু হটেননি তারা। দেশ ও মানুষের কাজে আত্মনিয়োগ করা পুলিশ আজ সাধারণ মানুষের কাছে সম্মানের পাত্র। দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালো রাখতে পুলিশ সদস্যরা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। এতে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে। সম্প্রতি দৈনিক আমাদের সময়ের এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বিপিএম। এই কর্মকর্তা মনে করেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা মোকাবিলায় যাকে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি পুলিশ সদস্য হাসিমুখে সেখানেই সে দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে এবং করে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বিপিএম জানান, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা রোগী চিহ্নিত হলে সরকার সারাদেশ অঘোষিত লকডাউন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পোশাকশিল্প মালিকদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে একাধিকবার পোশাককর্মীরা ঢাকায় যাতায়াত করে। এ কারণে সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তার পরও সিরাজগঞ্জকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ এবং করোনামুক্ত জেলা হিসেবে রাখতে পারলেও ঈদ মার্কেট কিছু দিনের জন্য খোলা রাখায় বর্তমানে তা আর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়নি। তার পরও দেশের অন্যান্য জেলার চাইতে সিরাজগঞ্জ এখনো অনেকটা ভালো অবস্থানে আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি জানান, আমরা মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ঘন ঘন হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, সব বাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি ভবনে প্রবেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করেছি। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেছি।

শুধু তা-ই নয়, সরকার যখন সীমিত আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো সচল করতে বলল, আমরা সেগুলোয়ও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় সহযোগিতা করেছি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণের জেলাগুলোয় মানুষের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি। একই সঙ্গে দেশের বাইরে এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা থেকে আসা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করেছি। পাঁচ হাজার স্টিকার ছাপিয়ে করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করে তাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছি। প্রতিবেশীদের ভালো রাখতে লাল পতাকায় চিহ্নিত করে দিয়েছি তাদের বাড়ি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সম্প্রতি এনায়েতপুর উপজেলা এলাকায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ৫ দিন পুলিশকে দিনরাত কাজ করতে হয়েছে। সেখানে শত শত মানুষের জনসমাগম হয়। সে কারণে ওই থানার ১৫ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়। ইনশাআল্লাহ, তারা এখন অনেকটা ভালো। আমি নিয়মিত তাদের এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি। তিনি জানান, মার্চ মাসের ৮ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৯ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর মারা গেছেন। তবে আশার কথা, সবাই এখন সুস্থ আছে।

করোনাকালে জেলায় মানবিক সহায়তা বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি আমরা দুস্থ নয়, অভাবগ্রস্ত নয় কিন্তু করোনায় দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের দুই হাজার পরিবারকে গোপনে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি।

পুলিশের নতুন আইজির কথা উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনাকালে পুলিশের ভূমিকা মানুষের মন জয় করেছে। পুলিশের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে মানুষকে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। আগে মানুষ সেবার জন্য থানায় আসত, কিন্তু পুলিশ এখন সেবাদানের জন্য মানুষের কাছে যাবে। একজন সম্মানিত নাগরিক পুলিশের কাছে যে ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, ঠিক সেই ব্যবহার পুলিশ প্রদান করবে এটি বাস্তবায়নের জন্য সিরাজগঞ্জে আমরা যে কাজ করছি, তার সুফল দ্রুতই পাবে মানুষ।

পুলিশ সুপার একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য সিরাজগঞ্জবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

advertisement
Evaly
advertisement