advertisement
advertisement

করোনার বন্ধেই তৈরি হলো জেব্রা ও কুমিরের কঙ্কাল

মুকুল কান্তি দাশ চকরিয়া ষ
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

করোনার কারণে প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক (যা ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত)। আর এই ফাঁকে মিউজিয়ামে সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে জেব্রা ও কুমিরের স্কেলেটিং অর্থাৎ কঙ্কাল। ইতোমধ্যে এই দুটি প্রাণীর কঙ্কাল তৈরির কাজ শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। যাতে পার্কে আগত দর্শনার্থী ছাড়াও শিক্ষার্থীরাও তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন।

পার্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একটি জেব্রা আনা হয়। পরে ওই জেব্রাটি দেওয়া হয় ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। ২০০৭ সালে পার্কের একটি বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যায় জেব্রাটি। ময়নাতদন্ত শেষে পার্কের ভেতরে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয় জেব্রাটিকে। ছয় মাস পর মাটি থেকে ওই জেব্রার হাঁড়গোড়গুলো তুলে পানিতে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয় ফ্রিজে।

২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকডাইল ব্যাংক থেকে ১০ ফিট লম্বা ও আড়াই মিটার উচ্চতার একটি মিঠা পানির কুমির আনা হয়। পরে ওই কুমিরটি দেওয়া হয় এই সাফারি পার্কে। ২০১৮ সালের বার্ধক্যজনিত কারণে ওই কুমিরটিও মারা যায়। অনুরূপভাবে, ময়নাতদন্ত শেষে মৃত কুমিরটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। ছয় মাস পর কুমিরের মৃতদেহ মাটি থেকে তুলে সংগ্রহ করা হয় হাড়গোড়গুলো। ওইসব হাড়গোড় পানিতে ধুয়ে ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয় ফ্রিজে। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের কর্মকর্তা ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম জানান, পার্কের মিউজিয়ামে অনেকদিন ধরে জেব্রা ও কুমিরের হাড়গোড়গুলো ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সময় ও সুযোগ না হওয়ায় সেগুলো দিয়ে পূর্ণ অবকাঠামো তৈরি করা যাচ্ছিল না। এই করোনাকালের সুযোগে প্রাণীর দুটির হাড়গোড়গুলো দিয়ে কঙ্কাল তৈরি করেছি। এই প্রাণী দুটির কঙ্কাল তৈরির জন্য কুমিল্লা থেকে একজন কারিগর আনা হয়েছে। দুটি কঙ্কাল তৈরির করতে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জুনের ৩০ তারিখ কঙ্কাল তৈরির কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ শুক্কুর আলী (৬০)। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দুটি প্রাণীর হাড়গুলো দিয়ে পূর্ণ কঙ্কাল তৈরির কাজ শেষ করেন।

শুক্কুর আলী বলেন, কঙ্কাল তৈরি করতে তেমন কিছু লাগে না। কিছু আটা জাতীয় দ্রবণ, রংসহ আরও কিছু সরঞ্জাম দরকার পড়ে। একটা কঙ্কাল তৈরি করতে ২ থেকে ৩ দিন সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে কঙ্কাল তৈরির অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে মূল বিষয়। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই কাজ করছেন তিনি। তার বাবা সাবু মিয়াও কঙ্কাল তৈরির কাজ করতেন। তিনি চাকরি করতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জোলোজি ডিপার্টমেন্টে। মূলত বাবার কাছ থেকেই কাজ শিখেছেন তিনি।

সাফারি পার্কের কর্মকর্তা ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সদ্য তৈরিকৃত জেব্রা ও কুমিরের কঙ্কাল দুটি পার্কের মিউজিয়ামে বিশেষ কাচের বক্সের ভেতর রাখা হবে। এটা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জোলোজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদেরও কাজে আসবে। তিনি আরও জানান, আরও কয়েকটি প্রাণীর হাড়গোড় সংরক্ষণে আছে। এসব প্রাণীর হাড়গোড়গুলো দিয়েও কঙ্কাল তৈরি করা হবে। এছাড়াও পার্কে আর বেশকিছু পরিবর্তন আসছে।

advertisement
Evaly
advertisement