advertisement
advertisement

বরিশালে ছাত্রদলে পদ পেতে মরিয়া তৃণমূল নেতাকর্মীরা

আল মামুন বরিশাল
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষার পর ছাত্রদলের বরিশালের দশ উপজেলা, ছয় পৌরসভা এবং ২৪ কলেজ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় উজ্জীবিত তৃণমূলের নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা। কিন্তু সংগঠনের বেঁধে দেওয়া ‘ক্রাইটেরিয়া’ নিয়ে তাদের অনেকেই হতাশ, ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। এ অবস্থায় দলের তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মী বিভিন্ন কমিটিতে পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনোয়ার হোসেন জিপু সভাপতি ও পারভেজ আকন বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক করে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তার পর এক বছরের মধ্যে জেলার অধীন দশ উপজেলা, পৌর ও কলেজ কমিটি গঠন করেন জিপু-বিপ্লব।

তিন বছর মেয়াদি ওই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে ২০১১ সালে মাসুদ হাসান মামুন আহ্বায়ক ও এইচএম তসলিমকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে তিন মাসের জন্য কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কিন্তু গত সাত বছরে তারা একটি ইউনিট কমিটিও গঠন করতে পারেননি।

মামুন এখন জেলা যুবদলের ও ও তসলিম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। মামুন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অসহযোগিতার কারণে আমরা ইউনিট কমিটি গঠন করতে পারিনি। একই সঙ্গে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যস্ত থাকায় সংগঠন পুনর্গঠন করা যায়নি।

জানা যায়, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে মাহফুজ আলম মিঠুকে সভাপতি ও কামরুল আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এই কমিটির বিরুদ্ধে বেশ কয়েক মাস উত্তপ্ত ছিল বরিশাল বিএনপির রাজনীতি। অবশ্য স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ সারির নেতা এবং নতুন নেতৃত্বে পাওয়া মিঠু-কামরুলের সহনশীলতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সংগঠনটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় বিভিন্ন ইউনিট কমিটির ক্রাইটেরিয়া বা পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে অন্যতম উপজেলা ও সমমান শাখা (উপজেলা, থানা, পৌর ও কলেজ) কমিটিতে পদপ্রত্যাশী প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে এবং বয়সসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রার্থীর এসএসসি পাসের সাল কোনোভাবেই ২০০৫ সালের পূর্বে হতে পারবে না। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জেলা কমিটিকে সতর্কতামূলক চিঠি প্রেরণ করা হয় বলে জানান বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রাড়ী। এ ছাড়া কমিটি পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকিরকে প্রধান করে বরিশাল বিভাগের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পূর্বে ওই টিম বরিশাল জেলার আওতাধীন ৪০টি ইউনিটের নেতাকর্মীর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে সভা করেন। এসব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদপ্রত্যাশীরা জেলা কমিটির কাছে প্রত্যেকের সিভি (ব্যক্তিগত জীবনবৃত্তান্ত) জমা দেন।

অভিযোগ রয়েছে, বয়স্ক, বিবাহিত এবং অছাত্রদের পদে রাখতে বিএনপির স্থানীয় থেকে শুরু করে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা সুপারিশ করছেন। ফলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন জেলা ছাত্রদল নেতারা।

মুলাদী উপজেলায় পদপ্রত্যাশী রুহুল আমীন খান ও রোকনুজ্জামান রোকন। তাদের ছাত্রত্ব নেই। বিয়েও করেছেন তারা। আর বয়স এবং ছাত্রত্ব আছে কিন্তু বিয়ে করেছেন, এমন নেতাদের মধ্যে আছেন বনী আমীন, হিরু চৌধুরী ও শাওন হাওলাদার।

হিজলা উপজেলায় পদপ্রত্যাশী আরমান হোসেন ইমন, নূর সুজন, মহসিন সিকদার, তানভির তালুকদার, হাবিবুর রহমান ও শাহজালাল খান বিবাহিত এবং একাধিক সন্তানের জনক। তারা জমা দেওয়া সিভিতে বিয়ের তথ্য গোপন করেছেন। তবে বিয়ে না করলেও ছাত্রত্ব নেই আসাদুজ্জামান খান সজল, সাইদুল গাজী ও জহিরুল ইসলামের। এসএসসি উত্তীর্ণ নয় মনির হোসেন নপ্তি। তিনিও উপজেলায় শীর্ষ পদের দাবিদার।

একই অবস্থা জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পদপ্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে। বিয়ে করেও সিভিতে অবিবাহিত উল্লেখ করে পদে আসতে চাচ্ছেন মো. মুরাদ খান, নূরে আলম বাবু, আসাদুজ্জামান বাপ্পা, সিরাজুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, ফয়সাল হাওলাদার, মনির হোসেন রাব্বি, মঞ্জুর মোর্শেদ কাওসার ও রনি। আর এসএসসি উত্তীর্ণ নন সোহাগ, রবিন এবং শুভ; কিন্তু তারা চান দলের শীর্ষ পদের যে কোনো একটি।

ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে থাকা সৈয়দ তাজ উপজেলার শীর্ষ দুই পদের একটি চান। কিন্তু তার ঘরেই উপজেলা বিএনপি, উপজেলা যুবদল এবং পৌর যুবদলের সভাপতি রয়েছেন। যার কারণে তাকে নিয়ে জোর আপত্তি তৃণমূলের। প্রায় একই অবস্থা জেলার অপর ৪০টি ইউনিটের।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদল সভাপতি মো. মাহফুজ আলম মিঠু বলেন, ছাত্রদলের অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরিশাল জেলার সব ইউনিট কমিটি গঠন করা হবে। কোনো নেতার আপত্তিতে তৃণমূলের একজন কর্মীকে পদবঞ্চিত করা হবে না।

তিনি জানান, ৪০টি ইউনিটের জন্য প্রায় আড়াই হাজার নেতাকর্মী বায়োডাটা জমা দিয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করাসহ বিভিন্ন আপত্তি আসছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় টিম প্রধান জাকিরুল ইসলাম জাকির বলেন, ক্রাইটেরিয়ার বাইরে কেউ পদে আসতে পারবেন না এবং ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে থাকা যোগ্যরাই পদে আসবেন। যারা তথ্য গোপন করবেন, তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করবেন বলে জানান এই নেতা।

advertisement
Evaly
advertisement