advertisement
advertisement

কিশোরী মাতৃত্ব বেড়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে : বাল্যবিয়ে ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ

মো. নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুসংস্কার, অনগ্রসরতা ও যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে ময়মনসিংহ বিভাগে বাল্যবিয়ে ও কিশোরী মাতৃত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাল্যবিয়ে রোধকল্পে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের অফিস চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বাল্যবিয়েমুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছে। তা বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসচেতনতায়ও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ কোনোভাবেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া বিয়ে রেজিস্ট্রি না করার সিদ্ধান্ত। এসব বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী), ইমাম ও সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের লোকজনকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান এনডিসি।

পরিবার পরিকল্পনা (প.প.) ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালকের অফিস দুবছর ধরে চালু হয়েছে। এর পর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালকের অফিস থেকে জোরদার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে রোধে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বাল্যবিয়ে রোধ হলেই কিশোরী মাতৃত্বের হার হ্রাস পাবে। এ ছাড়া প্রজনন সক্ষমতার হার কমানোর বিষয়টিকেও বিভাগীয় পরিচালকের অফিস চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল।

মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল আরও জানান, এ বছর মহামারী কোভিড-১৯-কে প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করিÑ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বিভাগে সামনের দিনগুলোতে অগ্রাধিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্তমান মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ২-এ কমিয়ে আনা; একই সময়ে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬৩ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা; কিশোরী মাতৃত্ব হ্রাস করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার হার ৩৯ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা।

পরিবার পরিকল্পনা ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালকের অফিস সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলায় মোট জনসংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ। আর সক্ষম দম্পতির সংখ্যা ২২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৯। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের হার ৭৯.২৫ শতাংশ। এ ছাড়া নিয়মিত পদ্ধতি ব্যবহার করেন ৬৩ শতাংশ, মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অপূর্ণ চাহিদার হার ১০ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হার ৩৯ শতাংশ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীর সহায়তায় প্রসব হার ৪২ শতাংশ। কমপক্ষে চারবার গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের হার ৩৮ শতাংশ এবং কিশোরী মাতৃত্ব ৩১ শতাংশ।

কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে ১১টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ২৪০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৭৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১টি মডেল ক্লিনিক, ১টি সেনাবাহিনী ক্লিনিক, ১ হাজার ১০৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ২ হাজার ৭২০টি স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেবা দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৪ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রদত্ত সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সেবা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, কিশোর-কিশোরী সেবা, গর্ভকালীন সেবা, প্রসব সেবা ও প্রসবোত্তর সেবা এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবা।

গতকাল ছিল বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এ উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

advertisement
Evaly
advertisement