advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের দুগ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকার বস্তির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে ও গতকাল সকালে ক্ষমতাসীন দলের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। আর প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে প্রকাশ্যে ক্ষোভও দেখায়।

আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের নাম জানা যায়নি। সংঘর্ষে একপক্ষে নেতৃত্ব দেন জাহেদুর রহমান এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সালাহউদ্দিন ওরফে ডিস সালাহউদ্দিন। দুজনই চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি। ইতোপূর্বে তারা লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এএফ কবির আহমেদ মানিক ও একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের সমর্থক। খুলশী

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, গোলাগুলি নয়, হাতাহাতি হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশের টহল রয়েছে। তিনি বলেন, মতিঝর্ণা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসীরা নিয়মিতই সংঘর্ষে জড়ায়।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর সকালে নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় নিজ বাসার সামনে পিটিয়ে খুন করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে কোন্দলে প্রাণ যায় সুদীপ্ত বিশ্বাসের। হত্যাকারীরা লালখান বাজার থেকে মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে নালাপাড়া যায়। হত্যাকা- শেষে ফিরে আসেন লালখান বাজার। জাহেদুর রহমান ওই ঘটনায় পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ান। ইতিপূর্বে জাহেদুর রহমান ও সালাহউদ্দিন দুজনই সুদীপ্ত হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে বের হয়ে আসেন। তবে জাহিদ যে পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়েছিলেন, সেই পিস্তল আর উদ্ধার হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে মতিঝর্ণা বস্তির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আবারও পিস্তল থেকে গুলি ছোড়েন জাহেদ। এ সময় তার প্রতিপক্ষ সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকেও গুলি করা হয়। সালাহউদ্দিনের পক্ষে ছিলেন মো. আলমগীর নামের আরেক সন্ত্রাসী। লালখান বাজার এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা দিদারুল ইসলাম আবীর হত্যাসহ তিনিও একাধিক মামলার আসামি। উভয়পক্ষ নিজেদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দাবি করায় পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়।

সন্ত্রাসীদের প্রসঙ্গে লালখানবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এএফ কবির আহমেদ মানিক বলেন, কে সন্ত্রাসী, কার বিরুদ্ধে মামলা আছে তা পুলিশ দেখবে। প্রয়োজন হলে তাদের গ্রেপ্তার করবে।

advertisement