advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজস্ব ঘাটতি তিন হাজার ৩৯২ কোটি টাকা

আজিজুল হক বেনাপোল
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪
advertisement

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে গত ২০১৯-২০ র্অথবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আয় ঘাটতি হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ সময় ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪ হাজার টন পণ্য। তবে অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আয়ে পিছিয়ে ছিল এ কাস্টমস হাউস। এর পর করোনার ধাক্কায় এ পথে ভারতের সঙ্গে টানা আড়াই মাস আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আহরণ নেমে আসে অর্ধেকে।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) সকালে লক্ষ্যমাত্রার পরিসংখ্যানের এসব তথ্য জানান কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ৬ হাজার ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছর শেষে (জুলাই থেকে জুন) লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায় করে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ২২ লাখ টাকা।

এর আগেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এ বছরও ঘাটতি ছিল ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এ অর্থবছর ভারত থেকে আমদানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৩ টন।

এ ছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ হাজার ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বাণিজ্যের সঙ্গে সংশিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য খালাসে হয়রানি রাজস্ব ঘাটতির কারণ। রয়েছে বাণিজ্য তদারকিতে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে পরস্পরের সমন্বয়ের অভাবও। এতে ব্যবসায়ীরা এ পথে বাণিজ্যে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সরকারের যেমন রাজস্ব আয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি লোকসান গুনেছেন ব্যবসায়ীরাও। বৈধ সুবিধা নিশ্চিত হলে আবার গতি ফিরবে বাণিজ্যে।

আর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, শুল্ক ফাঁকি রোধে কড়াকড়ি আরোপ করায় আমদানি কমে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধাগুলো বাড়াতে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে সবাই ব্যবসা করতে চান। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমস্যায় সুষ্ঠু বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সপ্তাহে ৭ দিন বাণিজ্যসেবা চালু থাকলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল পাচ্ছেন না। বাণিজ্য প্রসার করতে হলে বৈধ সুবিধা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন সমস্যা আর অনিয়মে বারবার অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটছে। এতে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। এখনো সাধারণ পণ্যগারে কেমিক্যাল পণ্য খালাস করা হয়। বহিরাগতরা অবাধে প্রবেশ করে বন্দরে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বন্দরের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এ বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে ভয় পান।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, করোনার কারণে প্রথমত আড়াই মাস ধরে আমদানি বন্ধ ছিল। এ কারণে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। আর ইতোমধ্যে বেনাপোল বন্দরে অনেক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। এ ছাড়া আরও যে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এর মধ্যে বন্দরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, জেলখানার মতো বন্দরের চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ ও নতুন জায়গা অধিগ্রহণ। এসব উন্নয়ন কাজ শেষ হলে বেনাপোল বিশ্বের কাছে একটি আধুনিক বন্দর হিসেবে পরিচিতি পাবে। তখন আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিগুণ রাজস্ব রাড়বে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, পণ্য চালান খালাসে আগের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে কাস্টমসে। শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়েছেন। বিশেষ করে রাজস্ব বেশি আসে এমন পণ্য চালান কম আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে তারা আন্তরিক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

advertisement