advertisement
advertisement

সাগরপথে ইতালি উপকূলে ৩৬২ বাংলাদেশি
মানবপাচারকারীদের আইনের আওতায় আনুন

১৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ২১:৪৬
advertisement

অবৈধপথে সাগর পাড়ি দিয়ে দুদিনে ইতালির উপকূলে ভিড় জমিয়েছেন পাঁচ শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে ৩৬২ জন বাংলাদেশের নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ তথ্য জানিয়েছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশের লোকজনের বিদেশে পাড়ি দেওয়া থামছে না। ভাগ্য বদলাতে অনেকে দেশ-বিদেশে মানবপাচারকারীদের প্রলোভনের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের নাম বারবার আসছে। সর্বশেষ উদাহরণ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশির হত্যার ঘটনা। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ৩৮ জন তরুণ ভারত ও মিসর হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখান থেকে ইতালিতে যাওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু সুদানের আরও কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে এই বাংলাদেশি তরুণরাও লিবিয়ায় দুই দফা অপহরণের শিকার হন। প্রথম দফা অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান। দ্বিতীয় দফায় চাহিদামাফিক অর্থ দিতে না পারায় অপহরণকারীরা তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তারা অপহরণকারী দলের হোতাসহ দুজনকে হত্যা করে। এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে অপহরণকারীরা নির্বিচারে জিম্মিদের ওপর গুলি চালালে ২৬ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সুদানি নিহত হন।

মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর বিপদ সম্পর্কে জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে। দেশে মানবপাচারবিরোধী আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। এ ছাড়া আইনে ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে অনেক ভাগ্যান্বেষী তরুণ বিদেশে দুর্বিষহ জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন। অনেকে দুর্ঘটনায় মারা যান। কয়েক বছর আগে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যে গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছিল, সেখানেও বেশ কিছু বাংলাদেশির কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। কেবল অঘটন ঘটলেই সংশ্লিষ্ট মহলকে সাময়িক তৎপর হতে দেখা যায়। কিছুদিন পর সবাই সব ভুলে যায়। কিন্তু বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর এই মানবপাচারের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারির কোনো বিকল্প নেই।

advertisement