advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে উইন্ডিজের রোমাঞ্চ ছড়ানো জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১২ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ২৩:৩১
advertisement

পরিসংখ্যান বলে এর আগে মাত্র তিনবার প্রথম ইনিংসে ১০০ বা তার বেশি রানের লিড নিয়ে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটিও প্রায় কুড়ি বছর আগে, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। সাউদাম্পটনের অ্যাজেস বোলে ‘রেইজ দ্য ব্যাট’ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়ানরা এগিয়ে ছিল ১১৪ রানে। তবে অতীতের হিসেব-নিকেশ মাঠে অনেকটাই মূল্যহীন। বিখ্যাত ক্রিকেট সাহিত্যিক নেভিল হোমস কার্ডাসের ভাষায় বললে, ‘পরিসংখ্যান আস্ত গাধা’।

ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ, স্বাভাবিকভাবেই গোটা ক্রিকেট বিশ্বের নজর ছিল সাউদাম্পটনে। দর্শক শূন্য গ্যালারিতে খেলা হওয়াতে হয়তো কিছুটা সুবিধাই পেয়েছে উইন্ডিজরা। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে করোনাকালের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের দিনে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে চার উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উইন্ডিজ। 

অ্যাজেস বোলে সাধারণ টেস্টের প্রথম দিনগুলোতে সুবিধা পায় ব্যাটসম্যানরা। দিন যত গড়ায় বোলারদের জন্য ততই আশীর্বাদে রূপ নেয় অ্যাজেস বোলের উইকেট। তবে বৃষ্টির কারণে এবার হয়েছে উল্টো। ম্যাচের প্রথম দুই দিনের তুলনায় বরং শেষ দিনগুলোতে ব্যাট করা মনে হয়েছে বেশী সহজ।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের নয়া অধিনায়ক বেন স্টোকস। বৃষ্টি বাঁধায় প্রথম দিনে খেলা হয়েছে ১৭ ওভার ৪ বল। দ্বিতীয় দিনে আধ বেলা ব্যাট করে সবগুলো উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২০৪ রান তুলে ইংল্যান্ড, উইন্ডিজের পক্ষে একা জেসন হোল্ডারই নিয়েছেন ৬ উইকেট। বাকি ৪ উইকেট গেছে শেনন গ্যাব্রিয়েলের পকেটে।

ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত জবাব দিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। ইংলিশদের ২০৪ রানের বিপরীতে উইন্ডিজের সংগ্রহ ৩১৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য খেলায় ফিরেছে বেন স্টোকসের দল। এই টেস্ট যে রোমাঞ্চ ছড়াবে সেটা বোঝা গিয়েছিল ম্যাচের চতুর্থ দিনেই। পঞ্চম দিনের প্রথম প্রহরেই ৩১৩ রানে অল-আউট হয় ইংল্যান্ড। উইন্ডিজের তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন ছিল ২০০ রান।

ছোট লক্ষ্য তবে পথটা কঠিন। হাতে অফুরন্ত ওভার থাকলেও পঞ্চম দিনের উইকেটে ২০০ রানের টার্গেটও বড্ড কঠিন। তার ওপর ইনিংসের শুরুতেই আঘাত পেয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় জন ক্যাম্পবেলকে। শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। স্কোর-বোর্ডে ২৭ রান তুলতেই নেই ৩ উইকেট। তবে সেখান থেকে রোস্টন চেজ এবং জারমেইন ব্লাকউডের ৭৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে  ক্যারিবীয়ানরা।

চেজ জফরা আর্চারের বাউন্সারে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে থামলেও ব্লাকউড চালিয়ে যান লড়াই। সফরকারীদের যখন প্রয়োজন ৩২, তখন ব্যক্তিগত ৪২ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শেন ডরিচ। তার বিদায়ে ধাক্কা লাগে ক্যারিবীয়দের স্বপ্নের তরীতে।

তবে ব্লাকউড খেলে যান নিজের গতিতেই। জয় থেকে যখন ১১ রান দূরে ব্ল্যাকউড তখন স্টোকসের বলে মিড অফে জেমস এন্ডারনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। শতক থেকে ৫ রান দূরে ব্লাকউডের বিদায়, আঘাত জয় করে আবার উইকেটে ক্যাম্পবেল। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার আর ক্যাম্পবেল কোনো বিপদ হতে দেননি। ৪ উইকেটের জয়ে ‘রেইজ দ্য ব্যাট’ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল উইন্ডিজ।

সাউদাম্পটন টেস্ট ছড়িয়েছে রোমাঞ্চ, তবে ম্যাচ হেরে যতটা আঘাত পেয়েছে ইংল্যান্ড, কে জানে তারচেয়েও ব্যথাটা হয়তো বেশী টেস্টকে চার দিনে নামিয়ে আনতে চাওয়া কর্তা-ব্যক্তিদের। ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে সবশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর আর সিরিজ জেতা হয়নি ক্যারিবীয়দের। দীর্ঘ এই সময়ের পর আরেকবার সিরিজ জেতার সুযোগ এসে গেল প্রথম ম্যাচ জয়ে।

advertisement