advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টাইগাররা মাঠে নামবেন কবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০ ০১:৩৭
advertisement

দেশের করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পারে। লিগ যখনই শুরু হোক না কেন, ক্লাব কর্মকর্তারা শতভাগ ফিট খেলোয়াড় চান। এ জন্য খেলোয়াড়দের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পরই জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি! এর পর ধাপে ধাপে লিগের ক্রিকেটারদেরও অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমে গেলে এবং সরকার সবুজ সংকেত দিলে তবেই মাঠে নামবেন ক্রিকেটাররা।

করোনা ভাইরাসে প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় শিগগিরই ক্রিকেট-চর্চা শুরু করতে পারছে না বিসিবি। তবে ক্রিকেট মাঠে ফেরাতে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। বলে রাখা ভালো, উপমহাদেশে করোনা-উত্তর পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ক্রিকেট চর্চা শুরু হলেও বাংলাদেশ, ভারতের ক্রিকেট এখনো মাঠে ফিরেনি। অবশ্য বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ একটা গাইডলাইন তৈরি করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন, তবে সে জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিসিবি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। খেলোয়াড়রাও মাঠে ফিরতে চান। তারা মনে করছেন, বিসিবি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।

সরকারি নির্দেশে রোজার ঈদের পর অফিস খুলেছে। বিসিবির তরফ থেকে অবশ্য প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে, ক্রিকেট মাঠে ফেরাতে তারা তাড়াহুড়ো করবে না। বিসিবি ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করবে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস উত্তর ভারত কীভাবে ক্রিকেট-চর্চা শুরু করে তা দেখতে চাইছে বিসিবি। ইতোমধ্যে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ একটা গাইডলাইন তৈরি করেছে। তিনভাবে অনুশীলন শুরু করতে পারেন ক্রিকেটাররা। প্রথমটি হলো সোলো ট্রেনিং। অর্থাৎ ওয়ান টু ওয়ান ট্রেনিং। দ্বিতীয়টি হলোÑ একসঙ্গে তিন মাঠে তিন ক্রিকেটারের অনুশীলন। মিরপুরে বিসিবির মূল মাঠ, একাডেমি মাঠ ও ইনডোর মাঠে তিনজন আলাদাভাবে অনুশীলন করতে পারেন। তিন মাঠেই বিসিবির লোক থাকবে। মাঠের সংখ্যা বাড়ালে ক্রিকেটারের সংখ্যাও বাড়ানো যাবে। তিনজন করে হলে প্রতিদিন ১৫ জন ক্রিকেটারকে ট্রেনিং করানো যাবে। এক জনের পর তিন জন, তিন জনের জায়গায় ৬ জন, ১০ জন, এর পর পুরো টিম। তবে বাস্তবতা বলছে, ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ক্রিকেট কার্যক্রম শুরুর পর কোনো ক্রিকেটার যদি করোনায় আক্রান্ত হয় তা হলে দায়টা বোর্ডের ওপর বর্তাবে। বিসিবি তাই কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তার পরই ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিতে চায় দেশের ক্রিকেট বোর্ড।

এ মাসের শেষে শ্রীলংকা সফর ছিল টাইগারদের। তা স্থগিত হয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরও স্থগিত হয়েছে। বিসিবি এখন প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে দেশের ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর কথা ভাবছে। মার্চে শুরু হয়েছিল লিগ। তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রথম রাউন্ড শেষেই অনির্দিষ্টকালের জন্য লিগ বন্ধ ঘোষণা করেছে বিসিবি। সম্প্রতি ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) পক্ষ থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার প্রস্তুতি নিতে ক্লাবগুলোকে মৌখিক একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ভালো হলে ১৫ দিনের নোটিশে যেন খেলায় ফিরতে পারে তারা। ক্লাবগুলোও তাতে সম্মতি দিয়েছে। ভেন্যু হিসেবে বিকেএসপি ও কক্সবাজারের কথা বলা হয়েছে। লিগ দেরিতে শুরু হলেও খেলোয়াড়দের সম্মানী দেওয়ার জন্য ক্লাবগুলোকে অনুরোধ করেছে বিসিবি।

করোনা ভাইরাসের কারণে ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ঘরবন্দি টাইগাররা। এ সময়টা তারা বাসায় থেকে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। অবশ্য সম্প্রতি মাঠের অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন মুশফিক। বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় ৪০ একর জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে ফোর্টিস স্পোর্টস গ্রাউন্ড। ওখানে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট-বল দিয়ে অনুশীলন শুরু দিয়েছেন জাতীয় দলের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান।

advertisement