advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিস্তা ব্যারাজে রেড অ্যালার্ট

নিরাপদে সরতে মাইকিং

আমাদের সময় ডেস্ক
১৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

উত্তরবঙ্গসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার পানি হু হু করে বাড়ছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে তীব্র গতিতে পানি আসায় হুমকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ব্যারাজ রক্ষার্থে যে কোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাস কেটে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো। এ অবস্থায় তিস্তার তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে ফ্লাট বাইপাস কেটে দেওয়া হলে তিস্তার পানি ঢুকে লালমনিরহাটসহ পাঁচটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া, ঘাগটসহ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চর ও নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলো আবারও প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া যমুনার পানি বেড়ে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বন্যার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দীর্ঘ হচ্ছে বানভাসীদের দুর্ভোগ।

এদিকে সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ সব নদ–নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সকাল ও দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য জানায়।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার জানান, সোমবার বৃষ্টি তুলনামূলক কম হলেও ওপারের পাহাড়ি ঢল নামায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। পানি বাড়া অব্যাহত

থাকলে সিলেট অঞ্চলের নদী অববাহিকার উপজেলাগুলোতে আবারও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বগুড়ায় যমুনার

পানি ফের বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সারিয়াকান্দি, সোনাতল ও ধুনট উপজেলায় যমুনা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্ল­াবিত হয়েছে। প্রথম দফার পানি নেমে যেতে না যেতেই ফের বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ দীর্ঘ হয়েছে পানিবন্দি হাজারও মানুষের। পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, যমুনার পানি সোমবার বিকাল ৩টায় ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র তিস্তার পানি বাড়ছে হু হু করে। এর ফলে চার শতাধিক চর ও নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অনেকেই রাস্তা ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। প্রথম দফা বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই আবারও বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

এদিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, রবিবার রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ১০ মিটার; যা বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো কর্মকর্তারা তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের সবগুলো খুলে দিলেও পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাতীবান্ধা-বড়খাতা বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে যে কোনো সময় পাকা সড়কটি ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, জেলার সব ইউএনও ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নতুন করে আবার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদী তীরবর্তী নিচু অঞ্চল এবং বিভিন্ন চর এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গাইবান্ধা শহর রক্ষাবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট হুমকির মুখে পড়েছে।

পঞ্চগড়ে করতোয়াসহ অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার মিরগড় ঘাটের চারশত মিটার কাঠের সেতু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন ও সাতমেরা ইউনিয়নের দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে আবারও পানি বাড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে পাউবো। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ে বসবাসরত পাঁচটি উপজেলার মানুষ।

টাঙ্গাইলে সোমবার যমুনার পানি ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া ধলেশ^রী নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদমীসার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার ছয়টি উপজেলায় ফের বন্যার কড়াল থাবা পড়েছে। এ ছাড় অব্যাহত রয়েছে নদীভাঙন।

সুনামগঞ্জে বন্যার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ। রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারের পাশাপাশি অনেকের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও সব উপজেলায় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সড়ক দিয়ে পানি উপচেপড়ায় সুনামগঞ্জ-ছাতক, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের কুল্লাগড়া, গাঁওকান্দিয়া, কাকৈরগড়া ও বাকলজোড়া ইউনিয়নের প্রায় একশ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, নষ্ট হয়েছে আমন ধানের চারা।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেনÑ বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক প্রদীপ মোহন্ত, কুড়িগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক মোল্লা হারুন উর রশীদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমান মিজু, গাইবান্ধা প্রতিনিধি খায়রুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কাজল আর্য, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান ও দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি বিজন কৃষ্ণ রায়।

advertisement