advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনার উপসর্গ
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ আরও ১৫ জনের মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
১৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ও কুমিল্লায় ৩ জন করে, রাজশাহীতে ও বরগুনায় ২ জন করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, পটুয়াখালীতে ১, ময়মনসিংহে ১, ভোলার মনপুরায় ১ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন করে মারা যান। তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

সাতক্ষীরা : করোনার উপসর্গ নিয়ে ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোর ৪টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে ওই তিনজন মারা যান। গত শনিবার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী এ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে গতকাল বেলা ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। একই ইউনিয়ন থেকে একজন কৃষক জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত রবিবার দুপুরে হাসপাতালে আসেন। তাকে ভর্তি করা হয় আইসোলেশন ইউনিটে। সেখানে গতকাল ভোর ৪টার দিকে মারা

যান তিনি। এ ছাড়া গতকাল বেলা দেড়টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়ন থেকে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা দেওয়ার আগেই জরুরি বিভাগে তিনি মারা যান।

কুমিল্লা : কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ আরও তিনজন মারা যান। হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে একজন, করোনা ওয়ার্ডে একজন এবং আইসোলেশনে একজন মারা যান। সোমবার হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে আইসোলেশনে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শের খান, আইসিইউতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার সুজন ও করোনা ওয়ার্ডে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা এলাকার মাহেরপুর গ্রামের রোকসানা বেগম মারা যান। এ নিয়ে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৯৮ জন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়ে ৬৮ জন ও করোনার উপসর্গে ১৩০ জন মারা যান।

রাজশাহী : করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) রাজশাহীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম। রাজশাহী মহানগরীর বুধপাড়া এলাকার স্থায়ী অধিবাসী ছিলেন তিনি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আসাদুল ইসলাম কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। তিনি বাড়িতেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় ডায়রিয়া। সেদিন তিনি বাথরুমে পড়ে যান। এরপর তাকে দ্রুত রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এর আগে রবিবার সকালে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল মোজাফফর হোসেনের মৃত্যু হয়। গত ৭ জুলাই মোজাফফরের জ্বর আসে। পরে তিনি বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মহানগরীর অভয়ার মোড়ে তার মেয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বাকৃবি : করোনা উপসর্গ নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবদুল্লাহ ফাইয়াজ নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান। ফাইয়াজ কুমিল্লা সদর উপজেলার মো. আখতারুল হকের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : আখাউড়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার নীলাখাদ গ্রামের বাড়িতে রবিবার বিকালে তিনি মারা যান। গত কয়েকদিন ধরে তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বেচ্ছাসেবকরা ওই ব্যক্তির লাশ দাফন করেন।

বাউফল (পটুয়াখালী) : বাউফল উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে সজল মৃধা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোর ৪টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদি গ্রামে তিনি মারা যান। সজল মৃধা মদনপুরা ইউনিয়নের মৃধা বাজার এলাকার রশিদ মৃধার ছেলে। এক সপ্তাহ আগে শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ধানদি গ্রামে বেড়াতে এলে জ্বরে আক্রান্ত হন সজল। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে কিছুটা সুস্থতা বোধ করলেও রবিবার সকাল থেকে আবার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। ভোর ৪টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামের বাড়িতে মারা যান তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

মনপুরা (ভোলা) : উপজেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে নিবর মাঝি নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান। নিবর মাঝি উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নে চর-কলাতলির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বরগুনা : বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোভিড-১৯ রোগের উপসর্গ নিয়ে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। এর মধ্যে রবিবার রাতে ভর্তি হওয়া এক ব্যক্তি রাত আড়াইটার দিকে মারা যান। অন্য আরেকজন গতকাল সোমবার সকালে ওই ইউনিটে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। দুজনেরই বয়স ৭০ বছর।

advertisement
Evaly
advertisement