advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কক্সবাজার সৈকতে এখনো ভেসে আসছে কাছিম

সরওয়ার আজম মানিক কক্সবাজার
১৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

কক্সবাজার সৈকতে এখনো ভেসে আসছে মৃত, আহত ও সুস্থ কাছিমসহ নানা প্রাণী। পরিবেশবাদীরা বলছেনÑ সাগরে প্লাস্টিক সামগ্রী, তেল ও অ্যালকোহলভর্তি বোতলসহ নানা প্রকার আবর্জনা এবং জাহাজের বর্জ্যরে কারণে বিপর্যয় নেমে এসেছে পরিবেশে। তাই সাগরে মারা যাচ্ছে কাছিমসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। এ ছাড়াও সাগরে টিকতে না পেরে প্রাণ রক্ষায় সৈকতে ছুটে আসছে এসব প্রাণী; কিন্তু এখনো সরানো হয়নি প্লাস্টিক, কাচের বোতল, অ্যালকোহলের বোতলসহ আবর্জনাগুলো। গতকাল সোমবারও সৈকত এলাকায় দেখা যায়নি পরিবেশ ও বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে। অবশ্য কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত

কমিটি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে চলা লকডাউনের কারণে এখনো সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পর্যটকসহ স্থানীয়দের যাতায়াতও বন্ধ থাকায় সৈকত ও আশপাশের এলাকায় প্রকৃতি-পরিবেশে ফিরে এসেছিল প্রাণচাঞ্চল্য; কিন্তু গত দুই-তিন দিন ধরে কলাতলী হয়ে হিমছড়ি ইনানী পর্যন্ত সৈকতজুড়ে বিভিন্ন প্রকার প্লাস্টিক সামগ্রী, তেল ও অ্যালকোহল ভর্তি বোতল, ছেঁড়া জাল, কাঠের টুকরাসহ নানা প্রকার আবর্জনা আসতে থাকে। বর্তমানে সৈকতের ৫৫ কিলোমিটার এলাকা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচারের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ জানান, রবিবার দিনের ও রাতের জোয়ারে অনেক আবর্জনার পাশাপাশি মৃত, জীবিত ও আহত কাছিম ভেসে এসেছে।

এ ছাড়া হিমছড়ি এলাকা থেকে সোমবার ছয়টি জীবিত কাছিম সাগরে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

সোমবার সৈকত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনার মধ্যে মৃত ও আহত কাছিম পড়ে আছে। সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সৈকত এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা বন বিভাগের কাউাকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন কাছিম উদ্ধারদরকারী পরিবেশকর্মীরা।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন কক্সবাজারের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাসুদ উর রহমান বলেন, কাছিম, কাঁচিসাপের পাশাপাশি অনেক প্রাণীও আসছে। সাগরে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এতগুলো প্রাণী ভেসে এলেও পরিবেশ ও বন বিভাগের বন্যপ্রাণী বিভাগের উদাসীনতা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, কী কারণে বা কীভাবে এসব বর্জ্য এখানে এসেছেÑ এ বিষয়ে জানার জন্য এক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে আবর্জনাগুলো সরিয়ে ফেলা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

এ ছাড়া তদন্ত কমিটি থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর করণীয় নির্ধারণ এবং ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আফসারুল আবসার বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। আশা করছি ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে পারব।’ তিনি এ ব্যাপারে পরিবেশবাদীসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

advertisement