advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা না গেলে অন্য ভোটও বর্জন করবে বিএনপি

নজরুল ইসলাম
১৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২০ ১০:২৯
advertisement

করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আজ মঙ্গলবার বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন বর্জন করছে বিএনপি। শুধু এ উপনির্বাচনই নয়; করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দলটি সামনের সব উপনির্বাচনই বর্জন করবে বলে দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ এবং ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে যশোর-৬ আসন শূন্য হয়। বগুড়া-১ আসনে একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির ও যশোর-৬ আসনে আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে এসব প্রার্থী উপনির্বাচন বর্জন করেছে।

এ ছাড়াও শূন্য আসন হচ্ছে ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, সিরাজগঞ্জ-১ এবং পাবনা-৪। এসব আসনে সামনে উপনির্বাচন হবে। চলমান করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এসব উপনির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে না। এমন সিদ্ধান্তের পরও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের লবিং থেমে নেই। বিশেষ করে ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা বেশ লম্বা।

জানতে চাইলে একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী আমাদের সময়কে বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অবর্তমানে দল কখন কী সিদ্ধান্ত নেয় বোঝা বড় মুশকিল। তাই লবিং করছি। যদি দল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচনে যায়। একবার মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে গেলে আর দলীয় মনোনয়ন পাওয়া যায় না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, বিগত সময়ে স্বাভাবিক পরিবেশ-পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি চলছে। এর উন্নতি না হলে আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে তো মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। দেশের জনগণও চায় না এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাই। গত ২ এপ্রিল পাবনা-৪ আসনের (আটঘড়িয়া-ঈশ্বরদী) সংসদ সদস্য সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের (ডেমরা-দনিয়া-মাতুয়াইল) সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, ১৩ জুন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। সর্বশেষ মারা যান গত ৯ জুলাই রাতে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সাহারা খাতুন।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের মৃত্যুতে উল্লিখিত আসনগুলো শূন্য হয়েছে। পাবনা-৪ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসন নিয়ে তেমন আগ্রহ না থাকলেও ঢাকার দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। তার পরও পাবনা ৪-এ সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার মনোনয়নপ্রত্যাশী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন রোমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। কনকচাঁপা ছাড়াও জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হক তালুকদার রানাও মনোনয়নপ্রত্যাশী। ঢাকা-৫ আসন সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহম্মেদের পরিবারের মধ্যে সব সময়ই একটা আগ্রহ ছিল। এ পরিবার থেকে তিনিই এ আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু এবার (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে) এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পান মহানগর বিএনপির সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী। তিনিও বেশ শক্ত প্রার্থী। এর বাইরেও প্রার্থী হতে আগ্রহী বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষকনেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, মহানগর নেতা জয়নাল চেয়ারম্যান।

ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ রবিন আমাদের সময়কে বলেন, অনেকেই প্রার্থী হতে আগ্রহী, তবে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই তার পরিবার মনে নেবে। দল যদি মনে করে তার বাবা সালাহউদ্দিন আহম্মেদকে মনোনয়ন দেবে, তা হলে তিনি নির্বাচন করবেন। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হতে চান মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর। এর বাইরেও মহানগর বিএনপির নেতা কফিল উদ্দিন, আক্তার হোসেন, বাহাউদ্দীন সাদীসহ আরও বেশ কয়েকজন উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।

বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই নির্বাচনে থাকাটা বিএনপির জন্য ঠিক হবে না। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার। করোনার কারণে দেশের পুরো ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির। এই অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশ্ন কোনটা জরুরি জীবন, নাকি নির্বাচন? এই প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় বগুড়া-১ ও যশোর-৬ উপনির্বাচন বর্জন করার।

advertisement
Evaly
advertisement