advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রুট পারমিটের কথা বলে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সাহেদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুলাই ২০২০ ২৩:৫৬ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২০ ২৩:৫৮
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। পুরোনো ছবি
advertisement

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে পালিয়ে থাকা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের মালিক জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে তার চাচাতো ভাই মো. সাইফুদ্দিন (৫৫) বাদী হয়ে আজ সোমবার বিকেলে নগরীর ডবলমুরিং থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ছাড়াও মো. শহীদুল্লাহ (৬০) নামে ফেনীর ছাগলনাইয়া এলাকার একজন বাসিন্দাকে আসামি করা হয়েছে। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মেগা মোটরসের আমদানি করা থ্রি হুইলার্স যানবাহনের ঢাকায় রুট পারমিট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ ও তার সহযোগী শহীদুল্লাহ প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নগদে ৩২ লাখ টাকা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকার উত্তরা অ্যাভিনিউ গেট শাখার মাধ্যমে বাকি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা করা হয়।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিচিত শহীদুল্লাহর মাধ্যমে রিজেন্টের মো. সাহেদের সঙ্গে জিয়াউদ্দিনের পরিচয় হয়। তার মাধ্যমেই ঢাকায় রুট পারমিট পাইয়ে দেওয়ার জন্য নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসব অর্থ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রিজেন্টের সাহেদ বিআরটিএ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রের ফটোকপি দেন, যা পরবর্তীতে জাল বলে প্রতীয়মান হয়।

পরে শাহেদ বিভিন্ন সময়ে টাকা দেবেন বলে কালক্ষেপণ করেন এবং টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময়ে জিয়াউদ্দিনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত অর্থ ফেরত না দেওয়ায় এ প্রতারণার মামলাটি করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হলেও এখনো প্রধান আসামি সাহেদের কোনো খোঁজ পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

advertisement