advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ অভিযোগ, যা বলল স্কয়ার হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুলাই ২০২০ ০১:৫৪ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২০ ১৬:১৫
পুরোনো ছবি
advertisement

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ এনেছেন এক নারী রোগী। গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফেসবুকে ওই রোগী জানান, গত শনিবার যৌনাঙ্গের ‘ভিজিনিসমাস’ নামক এক অসুস্থতার জন্য স্কয়ার হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শক ডা. কাজী শামসুন নাহারের কাছে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষার এক পর্যায়ে ডাক্তারের কারণে যৌনাঙ্গের পেশীতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে ওই চিকিৎসককে জানান রোগী। এরপরই চিকিৎসক ‘তাকে ধর্ষণ করা দরকার’ মন্তব্য করেন বলে দাবি ওই রোগীর। এ সময় রোগীর সঙ্গে তার মাও ছিলেন।

ভুক্তভোগী ওই রোগী ফেসবুকে লিখেছেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন আমার স্বাস্থ্যের এই বিষয়গুলো নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। তার মানে তিনি যৌনশিক্ষার চূড়ান্ত বিরোধী। তিনি আমাকে এও বলেন, ‘আধুনিকতার নামে এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবে না।’ পরীক্ষার সময় আমি ব্যথা পাওয়ার কথা জানাই। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এসব মেয়েদের হাজব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায় না, যেহেতু ওদের যৌন মিলনের সময় ব্যথা লাগে। সো একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে’।”

ভুক্তভোগী রোগী তার অভিযোগ উত্থাপনের নানা পর্যায়েই বলেছেন, ‘আমার আপত্তি এই বিশেষ চিকিৎসককে নিয়ে, স্কয়ার হাসপাতালের প্রতি নয়। হাসপাতালের সুনামের প্রতি আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল তাদের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘গত শনিবার বুশরা নামের এক রোগী কিছু সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন। রোগীর সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য খুবই যুক্তিসংগত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করি। রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য (যা রোগ নির্ণয়ের জন্য আবশ্যক) অনুমতি সাপেক্ষে তার মায়ের উপস্থিতিতে শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘কনসালটেন্সি চলাকালীন সময়ে রোগী এবং তার মায়ের সাথে কথোপকথনে কোনো প্রকার অসঙ্গতি ওনারা পেয়েছেন কি না তা আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ওনারা আমার বা হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার অভিযোগও করেননি।’

ডা. শামসুন নাহার আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পারি যে, উক্ত রোগী আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া একটি অনৈতিক ব্যাখ্যামূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি একজন অব্স ও গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিগত ২২ বছর যাবত নিষ্ঠার সঙ্গে অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছি। আমার বক্তব্যে যদি জনাবা আফসারা তাসনিম বুশরার মনে হয়ে থাকে যে আমি চিকিৎসাগত কোনো অসদাচরণ করেছি তাহলে তিনি অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তা না করে তিনি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

advertisement
Evaly
advertisement