advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব্যসাচী অভিনেতা আসাদের জন্মদিন আজ
‘অভিনেতা হতে চাইনি’

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
১৫ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২০ ২২:৪৪
advertisement

যে কোনো চরিত্রে তাকে মানিয়ে যায়! মনে হয় চরিত্রটি তার জন্যই তৈরি। তার অভিনয় দেখলে মনে হয় এটাই বাস্তব, তিনি অভিনয় করছেন না। তিনি রাইসুল ইসলাম আসাদ। আজ এই মহান অভিনেতার জন্মদিন। তাকে শুভেচ্ছা। মুক্তিযুদ্ধের পর পরই মূলত ১৯৭২ সালে বেতার, মঞ্চ ও টেলিভিশনে তার অভিনয়ে যাত্রা হয়। চলচ্চিত্রে তিনি নাম লেখান ১৯৭৩ সালে। খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছিল তার প্রথম ছবি। এর পর ১৯৮০ সালে সালাহউদ্দিন জাকীর ‘ঘুড্ডি’, ১৯৮১ সালে সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’, ১৯৮৪ সালে কাজল আরেফিনের ‘সুরুজ মিঞা’সহ এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন এই বহুমাত্রিক অভিনেতা। ১৯৭২ সালে বহুবচনের হয়ে ‘রাজা হবো না’ ও ‘সর্পবিষয়ক গল্প’ নাটক দুটিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে থিয়েটারে নাম লেখান। এর পর একই বছরে ড্রামা সার্কেলে অভিনয়। ওই বছরই আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭৩ সালে এসে নিজেরাই মিলে ঢাকা থিয়েটার গঠন করেন। প্রথম অভিনয় ‘সংবাদ কার্টন’, ‘স¤্রাট’ ও ‘প্রতিদ্বন্দ্বীগণ’ নাটকে। তখন থেকে ঢাকা থিয়েটারে একের পর এক সাড়া জাগানো নাটকে অভিনয়।

এত এত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে তার প্রিয় কোনটি? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাইসুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘প্রিয় চরিত্রের কথা বলা যাবে না। কারণ প্রতিটিই আমার প্রিয়। কোনটা রেখে কোনটা বলব। চরিত্র মনের মতো না হলে তো আর কেউ অভিনয় করে না। তাই আলাদা করে বলার কিছু নেই।’

রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন ঢাকা কলেজিয়ট স্কুলের ছাত্র। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যখন ডাক পড়ল, তখন মুক্তিকামী বীরসেনানিদের সঙ্গে তিনিও ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। এ শহরটাকে ভালোভাবে চিনি। এই শহরের অনেক কিছুর সাক্ষী আমি। ১৯৭১ সালের অনেক ঘটনারও সাক্ষী। কাছ থেকে অনেক কিছু দেখেছি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ে পল্টনের বাসায় ছিলাম। পল্টন লাইন আমাদের বাড়ি। ১৭ বছর বয়স আমার। আমি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ একসঙ্গেই ছিলাম। পাশাপাশি বাড়ি আমাদের। ২৫ মার্চ রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পাই। তখন তো বাড়িঘর কম ছিল এদিকে। বুঝতে অসুবিধা হয় না, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দিক থেকেই আসছে গুলির শব্দ। আমরা দেখার জন্য এগিয়ে যাই। পরে জেনে যাই পাকিস্তান আর্মিরা অ্যাটাক করেছে। এর পর চলে আসি। নির্ঘুম রাত কাটে আমাদের। এর মধ্যে কয়েক পুলিশ সদস্য আসেন আমাদের বাড়িতে। তারা রাইফেল রেখে যান। বলে যান আবার আসবেন, গুলি শেষ হয়ে গেছে। ২ এপ্রিল আমি চলে যাই কেরানীগঞ্জ। সেখানেও আক্রমণ করে পাকিস্তানি মিলিটারিরা। অনেক মানুষ মারা যায়। আমিসহ কয়েকজন মসজিদের ভেতরে পালিয়েছিলাম। অল্পের জন্য বেঁচে যাই। মরার মতো পড়ে ছিলাম বলে বেঁচে যাই। সেখান থেকে আমি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কাজী শাহাবুদ্দিন শাহজাহান চলে যাই আগরতলায়। এখন বলতে গেলে গা শিউড়ে ওঠে। তখন এত ভাবনা ছিল না। তখন একটাই ভাবনাÑ ট্রেনিং নিতে হবে, দেশের জন্য যুদ্ধ করতে হবে। দেশ স্বাধীন করতে হবে। আসলে একাত্তরের স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না। একাত্তর মানেই আজকের আমরা, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।’

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করছেন। শিল্পী হিসেবে কোনো আক্ষেপ আছে আপনার? তিনি বলেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই। আমি অভিনেতা হতে চাইনি। আমাকে ধরে-বেঁধে অভিনেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যতটুকু পেয়েছি বোনাস। আমি সন্তুষ্ট। আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই।’

রাইসুল ইসলাম আসাদ ১৯৭৯ সালের ৯ নভেম্বর তাহিরা দিল আফরোজের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার একমাত্র কন্যা রুবায়না জামান। পেশায় ডাক্তার।

advertisement