advertisement
advertisement

কালজয়ী প্রেমের গল্প-৫
টাইটানিক জাহাজ নয় প্রেম ডোবার গল্প...

ফয়সাল আহমেদ
১৫ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২০ ২২:৪৪
advertisement

১৪ এপ্রিল ১৯১২; বিশালাকার এক বরফখ-ের সঙ্গে সংঘর্ষে ২,২২৩ জন যাত্রীসহ ডুবে যায় তৎকালীন সময়ে সাড়া জাগানো জাহাজ টাইটানিক। এই দুর্ঘটনায় বেঁচে ছিল মাত্র ৬০৬ জন। টাইটানিককে বলা হয়েছিল দ্য শিপ অব ড্রিমস। অর্থাৎ স্বপ্নের জাহাজ। প্রথম যাত্রায় ডুবে যাওয়া এই জাহাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল ‘টাইটানিক’ ছবি। কিন্তু ১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর যে ‘টাইটানিক’ বিশ্বব্যাপী ডুবেছে সেখানে জাহাজ ডোবার কষ্টে কারও চোখ ভেজেনি, ভিজেছে একটি প্রেম ডোবার কারণে! হলিউডের অন্যতম ব্যবসাসফল এই ছবিটির প্রধান দুই চরিত্র জ্যাক ও রোজ। এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট। এখনো দর্শকদের মনে শিহরণ জাগায় এই ছবির দৃশ্যপট। শুধু দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়নি, সঙ্গে রেকর্ড আয়ও করেছে ছবিটি। ২০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বাজেটের এই ছবি আয় করে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার। জেমস ক্যামেরনের এই ‘টাইটানিক’ সর্বোচ্চ ১৪টি মনোনয়ন এবং সর্বোচ্চ ১১টি অস্কার অর্জনের বিরল রেকর্ড গড়ে। কালজয়ী এই প্রেমের ছবির আরও একটি সাফল্য হলো, ভক্তরা এখনো এ নিয়ে তর্ক করেন যেÑ কী দরকার ছিল জ্যাকের মারা যাওয়ার? রীতিমতো নকশা এঁকে, পিথাগোরাসের তত্ত্ব দিয়ে প্রমাণ করে দেওয়া হয়, যে কাঠের দরজার ওপর ভাসছিল রোজ, তাতে কষ্টেসৃষ্টে হলেও ঠাঁই হতে পারত জ্যাকেরও। বেঁচে যেতে পারত দুজনই। যারা এই বিষয়টা নিয়ে তর্ক করেন তারা জেনে খুশি হবেন যে, কেট উইন্সলেটও তাদের পক্ষে! তিনি বলেন, ‘আমিও একমত। আমারও মনে হয়, ওই ভাসমান দরজায় ওরও জায়গা হয়ে যেত।’ পরিচালক অবশ্য বেশ কয়েকবারই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, প্রশ্নটা জায়গার ছিল না। প্রশ্নটা ছিল, দুজনের ভার সহ্য করে নিয়ে কাঠের খ-টি ভেসে থাকতে পারত কি না।’ জ্যাক ডুবেছে বলেই হয়তো ক্ল্যাসিক হয়ে উঠেছে ‘টাইটানিক’-এর গল্প! সাড়া জাগানো এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল আমাদের দেশেও। সিনেমা হলে ছবিটি দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মধুমিতা সিনেমা হলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। প্রথমে মাত্র পাঁচটা প্রিন্ট আনতে পেরেছিলেন! বাংলাদেশে ‘টাইটানিক’-এর ব্যবসা নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল ছবিটি। যে কোনো ইংরেজি ছবি ওই সময় পাঁচ হাজার, দশ হাজার রেন্টালে চলত। কিন্তু এই ছবির রেন্টাল ছিল এক লাখ। মধুমিতা হলে ছবিটি চলেছে টানা ২৮ সপ্তাহ!

advertisement