advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এমপির গাড়ির দুই চালকের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৬ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ০১:০৬
নাটোরের ম্যাপ
advertisement

মোটরসাইকেল থামানো নিয়ে নাটোর-১ আসনের সদস্য (এমপি) শহিদুল ইসলামের গাড়ির দুই চালকের সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার ধস্তাধস্তি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা সদরের মালঞ্চি রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই দুই চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আর এমপি  শহিদুল ইসলাম বলছেন, পুলিশ তার এক গাড়িচালককে অন্যায়ভাবে মারপিট করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এমপি শহিদুল ইসলামের গাড়ির চালক মোমিনুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী একই মোটরসাইকেলে চড়ে মালঞ্চি রেলগেট হয়ে এমপির বাড়িতে যাচ্ছিলেন। মালঞ্চি রেলগেটের ঢালু সড়কে তারা এলোমেলো গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের পেছনের মোটরসাইকেলে থাকা বাগাতিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল ইসলাম তাদের থামতে বলেন। তাৎক্ষণিক না থেমে তারা কিছু দুর গিয়ে মোটরসাইকেল থামান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই রাকিবুল এমপির গাড়িচালক মোমিনুলকে ধাক্কা দেন। এ সময় এমপির অপর চালক ইয়াকুব প্রতিবাদের সুরে এসআইকে চুপ থাকতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আরও দুই পুলিশ সদস্য হাজির হয়। তারা এমপির দুই চালককে থানায় নিয়ে যেতে থাকেন। তখন এমপির ভাই ও বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওহিদুল ইসলাম তাদের ছাড়িয়ে নেন। এ সময় এমপি শহিদুলের কর্মী–সমর্থকেরা ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে নাটোর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাতসহ প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনা শোনার পর থানায় চলে যান।

ঘটনার পর থেকে এমপির চালকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠাফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত বলেন, ‘ঘটনার সময় এসআই রাকিবুল ইসলাম দায়িত্বে ছিলেন। উচ্ছৃঙ্খলভাবে মোটরসাইকেল চালাতে দেখে তিনি এমপির গাড়িচালকদের থামতে বলেছিলেন। কিন্তু তারা নির্দেশ না মেনে উল্টো ওই এসআইকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন। তিনি কিছুটা আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

এমপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার গাড়ির চালকেরা নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। ঢালু সড়কের কারণে তারা মোটরসাইকেল থামাতে কিছুটা দেরি করেছিল। এ অপরাধের কারণে তাদের মারপিট করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে যদি দোষ পায়, তাহলে আমি তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেব।’

 

advertisement