advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা

মো মিজানুর রহমান মিজু,লালমনিরহাট প্রতিনিধি
১৫ জুলাই ২০২০ ১৩:২৯ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ১৩:৪০
advertisement

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম আঙ্গরপোতা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বেশ আলোচিত একটি এলাকা। তিন দিকে ভারত, এক দিকে তিস্তা নদী নিয়ে প্রতিবেশী দেশটির অভ্যন্তরে ২১ দশমিক ৮০ বর্গমাইলের দহগ্রাম ইউনিয়ন। পূর্বদিকে বাংলাদেশিদের মূল ভূখণ্ডে আসার একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডোর। ভাঙনের ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে অঞ্চলটি।

দহগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইউনিয়নটির আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। এতে শত শত পরিবারের কপাল পুড়ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই, বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে নাকাল দিন যাপন করছেন তারা। তিস্তা নদী ভারতীয় অংশে ভাঙছে না, অনবরত ভাঙছে বাংলাদেশি অংশে। ফলে বিলীন হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গরপোতার বিস্তীর্ণ এলাকা।

দহগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বয়ে যাওয়া সীমান্তের ওপারের মেখলিগঞ্জ দিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে প্রবেশ করেছে ভারতের সিকিমে উৎপত্তি হওয়া নদী তিস্তা। আর এই নদীটি লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ওপর দিয়ে চলে গেছে কুড়িগ্রাম জেলায়। যার কারণে বন্যা হলেই দহগ্রামে প্রথম ধাক্কা সহ্য করতে হয়।

গত রোববার রাতে হঠাৎ করে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। এতেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতি পরিবর্তন ঘটে দহগ্রামের তিনটি ওয়ার্ডে তীরবর্তী এলাকায় লণ্ডভণ্ড করে ফেলে তিস্তা। এখানকার সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

জানা গেছে, দহগ্রামের ৩টি ওয়ার্ড লণ্ডভণ্ড অবস্থা। তিস্তা এমন ফুলে ফেঁপে ভয়ংকর হয়ে ওঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ রোববার রাতে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতেও মাইকিং করা হয়েছে। হাতীবান্ধা-বড়খাতা বাইপাস সড়কে পানির চাপ ঠেকাতে এলাকার লোকজন বালির বস্তা ফেলছে।

এলাকাবাসী বলছে, যে অবস্থা চলছে, নদীর পানি উপচে তীরবর্তী এলাকাগুলোকে প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। মানুষ বাড়িঘর-বতসভিটা হারাতে পারে। আবার বানের পানি নামতে গিয়ে শুরু হবে আগ্রাসী ভাঙন। নদীপাড়ের অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধ ভেঙে পানি পথ পরিবর্তন করে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবল স্রোতে ঢুকছে। এতে ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি, পাকা রাস্তাসহ  ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা-আবাদি-জমি হারিয়ে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে বাঁধ, রাস্তা বা অন্যের জমিতে।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরে দহগ্রামই তিস্তার ভাঙনে এলাকা ছোট হয়ে যাচ্ছে। তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিলে দহগ্রাম ইউনিয়নটি বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশের এ ভূখণ্ডটির অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি।’

advertisement