advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খাদ্য ও পুষ্টির অনিরাপত্তা
দ্রুত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ব্যবস্থা নিতে হবে

১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:২৭
advertisement

জাতিসংঘের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে এ বছরের শেষনাগাদ আরও ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার সংকটে পড়বে। এর ফলে ইতোমধ্যে অনিরাপত্তায় থাকা ২০০ কোটি মানুষের সঙ্গে তারাও যুক্ত হবেন। গত বছর বিশ্বে তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগেছে প্রায় ৭৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। এসব তথ্য জানা গেছে জাতিসংঘ প্রণীত বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অবস্থা সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে। পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে পড়ার কারণ আর কিছু নয়, করোনা মহামারীর আক্রমণ। এতে বিশ্বব্যবস্থা ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ তছনছ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জাতিসংঘের লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বিশ্বের সব মানুষকেই খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা প্রদানে সক্ষমতা অর্জন। কিন্তু বাস্তবতা এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বস্তুতপক্ষে করোনা মহামারীর আগে থেকেই বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে প্রচুর মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার সংকটে রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো ২০১৪ সাল থেকে খাদ্য পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। আমাদের মতো বিভিন্ন দেশ রেশন প্রথা তুলে দিয়ে সবই মুক্তবাজারে ছেড়ে দেওয়ার পর নিত্যব্যবহার্য খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। দুর্নীতি, অদক্ষতা ও যথাযথ কৌশলের অভাবে সরকারি খাদ্যসহায়তা প্রকল্পগুলো পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারছে না। দক্ষিণ এশিয়াÑ এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, সাব-সাহারা আফ্রিকার নানা দেশ, লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশ খাদ্য বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, করোনার কারণে সরাসরি যেমন বহু মানুষের প্রাণঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তেমনি দেশে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অপুষ্টি ও অপুষ্টিজনিত নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।

সোজা ভাষায় বলা যায়, চলতি বছরে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ চরম খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে। এ সংকট করোনার সঙ্গী হয়ে এখনই শুরু হয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কৃষি উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে, আমন ও বোরো দুটি ফসলই প্রত্যাশার বেশি উৎপাদিত হয়েছে। বিতরণ, বিপণন ও মজুদে নানা সমস্যা, বিশেষত দুর্নীতি ও মুনাফাবাজি থাকলেও আপাতত দেশ দুর্ভিক্ষাবস্থা এড়াতে পারবে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশের নানা অঞ্চলে বন্যা দেখা দিলেও এখনো আশা করা যায়, এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মূল সমস্যা হলো খাদ্যের মজুদ ও বাজারের ওপর সরকারের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ঘটাতে পারে।

আমাদের দেশ এমনিতেই সব নাগরিকের জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা তৈরি করতে পারেনি। এখন কোভিড ১৯-এর বাস্তবতায় যে ধরনের দিশাহীনতা দেখা যাচ্ছে, এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই আমরা চাই সরকার এখনই সাবধান হবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

advertisement
Evaly
advertisement