advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কোভিড পরীক্ষা
বাড়িয়ে অন্তত দিনে ২০ হাজার করা হোক

১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:২৭
advertisement

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন বারবার পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছে, বাংলাদেশ ঠিক তখনই পরীক্ষা কমিয়ে দিয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা দৈনিক ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়িয়েও একদিনের জন্য সেই সংখ্যা ছুঁতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মে মাসে ৫২টি ল্যাবে যে সংখ্যক করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, এখন ৭৯টি ল্যাবেও প্রায় একই সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এতে সংক্রমণ বাড়ছে, আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ফলোআপ পরীক্ষা বন্ধ, নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, বন্যা ও অপ্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ হ্রাসÑ এ চারটি কারণে নমুনা পরীক্ষা কমেছে। এখন করোনার লক্ষণ-উপসর্গ থাকা রোগীরাই শুধু নমুনা পরীক্ষা করছেন। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। গত মে মাসে ৫২টি ল্যাবে যে সংখ্যক করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, এখন ৭৯টি ল্যাবেও প্রায় একই সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

যেহেতু দেশে সংক্রমণ বাড়ছে, এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা বাড়াতে হবে। অথচ সরকার এ মুহূর্তে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে পরীক্ষার হার না বেড়ে উল্টো কমে গেছে। জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টÑ এ চার উপসর্গ না থাকলে কোনো ব্যক্তির পরীক্ষার জন্য নমুনা গ্রহণ করা হবে না। এটি একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত, কারণ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের একটা বড় অংশের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না; কিন্তু উপসর্গহীন করোনাবাহী ব্যক্তিদের সংস্পর্শে গেলে যে কোনো সুস্থ মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন। মূলত এভাবেই আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন, কিন্তু পরীক্ষা করা হয়নি বলে তারা শনাক্ত রোগীদের হিসাবের বাইরে থেকে গেছেন। পরীক্ষায় মূল্য আরোপ করার সিদ্ধান্তের পেছনে লোকজনকে পরীক্ষা করাতে নিরুৎসাহিত করা ছাড়া আর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এর মধ্য দিয়ে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা লোকজনের পরীক্ষার সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে।

আমরা মনে করি, সরকারের যেসব সিদ্ধান্তের কারণে করোনা পরীক্ষার হার কমেছে, তা এক ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবিলম্বে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। কেননা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণ কমে। আগে পরীক্ষা করালে দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে ও মৃত্যুঝুঁঁকি কমে।

advertisement