advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সম্পদ লুটপাট ও জমি দখল করে মার্কেট

মো. আ. লতিফ শ্রীপুর
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:৪৬
advertisement

বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পদ লুটপাট ও জমি বেহাতের ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ রেলস্টেশনে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের এই স্টেশনের সংস্কারাধীন এক নম্বর লাইনের ভাঙা পাথর চড়া মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের কর্মচারীদের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে মার্কেট গড়ে তোলার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় রেল কর্মচারীদের যোগসাজশে কাওরাইদে রেলওয়ের মিস্ত্রি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ অপকা- চালাচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনটি উঠিয়ে নতুন করে লাইন বসানোর উদ্যোগ নেয় রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ। এ কাজ বাস্তবায়নকালে লাইনে থাকা পাথরের ভাঙা অংশ মাটিসহ সরিয়ে পুনরায় লাইনে ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও রেলমিস্ত্রি সেগুলো স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় স্টেশনের অদূরে ট্রাকে করে নিয়ে জড়ো করেন। সেখানে মাটি থেকে পাথর আলাদা করে বিক্রি করা হয়। কাওরাইদের নূরানী ভিটা মধ্যপাড়ায় স্তূপাকারে রাখা হয়েছে এসব পাথর। ভেকু দিয়ে মাটি থেকে পাথর পৃথককরণের দৃশ্যও দেখা গেছে।

স্থানীয় যুবক মানিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রেলওয়ের এসব পাথর পাহারা দেন। তিনি বলেন, রেলমিস্ত্রি মোসলেম উদ্দিন বাবু ও স্টেশন মাস্টার এ বিষয়ে জানেন। আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেখে রাখার।

স্থানীয় এক যুবক জানান, ১০০-১২০ টাকা ফুট দরে বিক্রি করা হচ্ছে এসব পাথর। দু-তিন সপ্তাহ ধরে পাথর বিক্রির এই তৎপরতা চলছে। শুধু ভাঙা পাথরই নয়, এক নম্বর লাইনের বিপুলসংখ্যক কাঠের স্লিপারও উঠিয়ে সেই স্থানে সিমেন্টের স্লিপার বসানো হয়েছে। পুরনো কাঠের স্লিপারগুলোও এই চক্র বিক্রি করে দিচ্ছে। রেলমিস্ত্রি মোসলেম পরিত্যক্ত রেল কেটে এর খ-াংশ স্থানীয়দের কাছে বিভিন্ন সময় বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কাওরাইদ রেলস্টেশনের উত্তর পাশে পুরনো পানির ট্যাংকসংলগ্ন স্থানে রেল কর্মচারীদের বাসভবন ছিল। পরিত্যক্ত এই কোয়ার্টার ভেঙে রেলমিস্ত্রি রেললাইনসংলগ্ন সড়কের পাশে বেশ কয়েকটি দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে বর্তমানে অনেকগুলো সেলুন রয়েছে।

তবে রেলওয়ে মিস্ত্রি মোসলেম উদ্দিন বাবু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নতুন লাইন বসানোর সময় এলাকার মানুষ কিছু মাটি-পাথর নিয়ে থাকতে পারে। তবে আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। রেলওয়ের পরিত্যক্ত বাসভবন ভেঙে মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর না দিয়ে মোসলেম বলেন, মাত্র দুই বছর আর চাকরি আছে। অনেকে শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে বলতে পারে।

কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার (জুনিয়র) নয়ন মিয়ার কাছে সংস্কারাধীন এক নম্বর লাইনের পাথর কোথায় জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। তবে পাশেই থাকা নুরুল ইসলাম নামে এক রেল কর্মচারী বলেন, আমরা জানলেও এ বিষয়ে বলতে পারব না। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (প্রকৌশল) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের কাছে এ তথ্য তুলে ধরা হলে তিনি রেলওয়ের সম্পদ ও সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, রেলওয়ের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। জড়িত রেলমিস্ত্রিকে বরখাস্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement