advertisement
advertisement

বয়স ৩১, সাইনবোর্ডে ১৫০ বছর

মো. হাবিবুর রহমান মুরাদনগর
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:৪৬
advertisement

এসএসসি পাস করেছেন ২০০৫ সালে। সেই অনুযায়ী বর্তমান বয়স প্রায় ৩১; কিন্তু সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন ১৫০ বছরের মালিকানার। সরকারি চাকরি করেও বয়সের এত ফারাক রেখে এই সাইনবোর্ড সরকারি খাল দখলের উদ্দেশ্যে। অভিযোগ পেয়ে ভূমি অফিসের লোকজন লাল নিশান টানিয়ে দিলেও সাইনবোর্ড এখনো সরানো হয়নি। এর ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর মুখে মুখে ‘রক্ষকই এখন ভক্ষক’। এ চিত্র কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আকুবপুর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামে। মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। ঘটনাটি সত্যি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যায়, ওই ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের আশিকুর রহমান ২০০৫ সালে সোনাকান্দা মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলায় সহকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত। সে অনুপাতে তার বয়স এখন ৩০ থেকে ৩২-এর কোঠায়; কিন্তু নিজ গ্রামের পাশেই ঘোড়াশাল গ্রামে মেটংঘর মৌজার ৬৬২নং দাগে নিজের পদ-পদবি ব্যবহার করে ১৫০ বছরের মালিকানা সংযুক্ত করে সরকারি খালের মধ্যে সাইবোর্ড লাগিয়েছেন। এ ব্যাপারে আবু সায়েদ নামে এক ব্যক্তি ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সোহাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাল নিশান টানিয়ে দিয়ে সাইনবোর্ড সরিয়ে নিতে বলেন। সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার কথা দিলেও আজ পর্যন্ত তা করেননি আব্দুর রহিম।

এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট আশিকের বাবা আব্দুর রহিম খালটি সরকারি স্বীকার করে বলেন, সরকারের প্রয়োজন হলে খালটি ছেড়ে দেব; কিন্তু অন্য কাউকে ভোগ-দখল করতে দেব না। অপর অভিযুক্ত হোসেন মিয়া, জাকির হোসেন ও সবুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও খালটি সরকারি বলে স্বীকার করেন। তবে এ খালটি যেন পাশের বাড়ির জালাল মিয়া পান, সে ব্যাপারে তারা চেষ্টা করছেন বলে জানান।

কিশোরগঞ্জ জেলায় কর্মরত সহকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান বলেন, আমাকে না জানিয়ে একটি মহল ফায়দা লোটার জন্য সাইনবোর্ড ব্যবহার করেছে। আমি সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলেছি। আকুবপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সোহাগ বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইনবোর্ড সরিয়ে নিতে বলি। কিছুদিন পূর্বে এ খাল ড্রেজার দিয়ে ভরাট করতে চাইলে আমি গিয়ে বাঁধা দেই।

advertisement