advertisement
advertisement

করোনাকালে ডায়রিয়ার ‘থাবা’

মতলব আইসিডিডিআরবিতে ১৪ দিনে রোগী ভর্তি সাড়ে ৫ শতাধিক

মাহফুজ মল্লিক মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর)
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:৪৬
advertisement

কোভিড-১৯ এর দুর্যোগের মধ্যে চাঁদপুর ও আশপাশের জেলায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপও। গত ১৪ দিনে এসব এলাকার সাড়ে পাঁচ শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভ্যাপসা গরমে এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) চাঁদপুরের মতলব হাসপাতালের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন থেকে গত ১৩ জুলাই পর্যন্ত ১৪ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছে ৫৭৫ জন। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছেন ৪০ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ নারী এবং ৪৪ শতাংশ পুরুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা ২টার মধ্যে সেখানে ভর্তি হন ২৩ জন।

সূত্রটি আরও জানায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলাসহ চাঁদপুরের আট উপজেলার ২৭৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার ২০১ এবং লক্ষ্মীপুরের ৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা নোয়াখালী ও শরীয়তপুর জেলার।

সোমবার দুপুরে ওই হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালটির প্রতিটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়া রোগীদের ভিড়। এসব রোগীর চিকিৎসাসেবায় সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা তৎপর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ঘনঘন পাতলা পায়খানা ও বমি অওনে গত শনিবার দেড় বছর বয়সী মেয়ে ইসরাত আরাকে এখানে ভর্তি করাই। চিকিৎসকেরা তারে খাওনের স্যালাইন ও কিছু ওষুধ দিয়েছে। এখন ও অনেকটাই সুস্থ।’

আইসিডিডিআরবির মতলব হাসপাতালের স্টেশনপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আল ফজল খান বলেন, ভ্যাপসা গরমের কারণে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় এসব লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। ময়লাযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং দূষিত পানি পান করায় এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ভর্তি হওয়া শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদের স্যালাইন ও মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। সাত মাস থেকে দুবছর বয়সী শিশুদের খাওয়ার স্যালাইন, বেবি-জিংক, মায়ের বুকের দুধ, সুজি ও খিচুড়ি খেতে দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক রোগীকে খাবার স্যালাইন, স্বাভাবিক খাবার এবং ক্ষেত্রবিশেষে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। বারবার পানির মতো পাতলা পায়খানা হলে, ঘনঘন বমি হলে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে ও গায়ে জ্বর থাকলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে।

advertisement