advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কেউ একটু বোগলো আওজায়ে নিল না...

সাহিদুর রহমান, ইসলামপুর (জামালপুর)
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:৪৭
advertisement

‘ঘরের ভেতর বুকসমান পানি, সাঁতারও জানি না, এই বাচ্চা নিয়ে সারাদিন বেড়াবার লাগছি একটু ঠাঁই পাওয়ার জন্য, কেউ একটু বোগলো আওজায়ে (স্থান) নিল না। যেভাবে পানি ভাড়তাছে (বৃদ্ধি) রাতে মনে হয়, শেষ সম্বল ঘরের চালটুকুও ডুবে যাবে। এদিকে ঘরে খাবারও নাই, কেউ আমাদের খোঁজখবরও নেয় না’ অশ্রুসিক্ত নয়নে কথাগুলো বলছিলেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বাবনা গুনাপাড়া গ্রামের বয়স্ক বিধবা তোলা বেওয়া। গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গেলে এ প্রতিবেদককে কাছে পেয়ে এভাবেই কষ্টের কথা প্রকাশ করেন তিনি।

তোলা বেওয়া আরও বলেন, ‘আমার ঘরের মধ্যে কোনো শুকনো খাদ্য জিনিসও নেই, বাসি মুখে আছি এখনো (বিকাল সাড়ে ৪টা) পর্যন্ত। শুধু এ বাচ্চার (বেপির ঘরের নাতি) জন্যই আমি আছি মহাবিপদে।’

শুধু তোলা বেওয়া নন, চিনাডুলী ইউনিয়নের আরও হাজারও মানুষ বন্যার কারণে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। পশ্চিম বাবনা গুনাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেওয়া, আকলিমা, জয়বান, কহিল উদ্দিনসহ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বললেন কষ্টের কথা।

মমতাজ বেওয়া বলেন, ‘ছবি তুলে যাদের, লাভ তাদেরি হয়, আমরা কিছুই পাই না। আননেরা আর হুদাই ছবি তুইলেন না। আমগরে খিদা সহ্য হয়, গরু-ছাগল-পোলাপাইনদের দিক চাইলে আর ভালো লাগে না।’

ইসলামপুরে প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙে মঙ্গলবার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৪৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। সংকট শুরু হয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের। উপজেলার সাত ইউনিয়নের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ১৫৪ টন জিআর চাল, শুকনো খাবার ও গোখাদ্য বাবদ আড়াই লাখ টাকা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু।

advertisement