advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় এন্ড্রু কিশোরকে বিদায়
সমাহিত হলেন প্লেব্যাক সম্রাট

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২২:৫৮
advertisement

বিদায় এন্ড্রু কিশোর। বিদায় প্লেব্যাক সম্রাট। ৬ জুলাই রাজশাহী নগরের মহিষবাথান এলাকায় অবস্থিত এন্ড্রু কিশোরের বোন শিখা বিশ্বাসের বাসায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এ গায়ক। এর পর তার মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। এন্ড্রু কিশোরের দুই সন্তান জে এন্ড্রু সপ্তক ও মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। তারা এলেন। গতকাল (১৫ জুলাই) বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তাকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের স্থানীয় সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়। এ কবরস্থানেই রয়েছে তার বাবা ক্ষিতীশ বাড়ৈ ও মা মিনু বাড়ৈয়ের কবর।

এর আগে রাজশাহী সিটি চার্চে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভক্ত-অনুরাগীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় এন্ড্রু কিশোরের কফিন। কিছু সময় চার্চেই রাখা হয় শিল্পীর কফিন। কফিনের ভেতর লাল পাঞ্জাবিটাই ছিল শেষ পোশাক। জানা যায়, এই পাঞ্জাবিটা তার খুব প্রিয় ছিল। স্বল্প পরিসরে স্বজন, শুভাকাক্সক্ষী ও ভক্তদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ অনেকে উপস্থিত হন। ঢাকা থেকে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, অভিনেতা জয় চৌধুরী, সংগীত পরিচালক ইথুন বাবুসহ অনেকে।

শেষ শ্রদ্ধায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের পক্ষ থেকে, রাজশাহী জেলা প্রশাসন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সরাসরি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। এ ছাড়া উপস্থিত হয়েছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানসহ অনেকেই।

‘আবদুল আজিজ বাচ্চু স্মৃতি সংসদ’ গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরের অলকার মোড়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে মোমবাতি প্রজ্বালন করে এন্ড্রু কিশোরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে ভক্তরা একই সময়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

ক্যান্সার আক্রান্ত এন্ড্রু কিশোর টানা ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থেকে গত ১১ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে দেশে ফেরেন। সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার আগেই সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, এক মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর বাঁচবেন এ শিল্পী। মূলত এমন তথ্য পেয়েই দেশে ফিরে এন্ড্রু কিশোর নিজ সিদ্ধান্তে নীরবে চলে যান জন্মশহর রাজশাহীতে। সেখানেই জীবনের শেষ কয়েকটি দিন নিজের মতো করে কাটালেন তিনি।

থেমে গেল এন্ড্রু কিশোরের কয়েক যুগের সংগীতজীবন। শেষ হলো একটি অধ্যায়। তার অগণিত গান বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। গানের মাঝেই চির সবুজ থাকবেন এন্ড্রু কিশোর।

advertisement
Evaly
advertisement