advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কালজয়ী প্রেমের ছবি-৬ অনন্ত প্রেম
ঢাকার ছবিতে ‘প্রেম’ এলো

ফয়সাল আহমেদ
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ০৯:২৩
advertisement

একটি গল্পের ভিত মজবুত হয় অভিনয়গুণে, জুটির কারণে। একটি জুটি গল্পটাকে পর্দায় এমনভাবে ফুটিয়ে তোলেন, যা দেখে দর্শক হাসেন-কাঁদেন, আলোচনা-সমালোচনা করেন। আমাদের চলচ্চিত্রে এমন অনেক বিখ্যাত জুটি ছিল, আছে। এমনই একটি জুটি রাজ্জাক-ববিতা। আর এই জুটির বিখ্যাত অনেক প্রেমের ছবির মধ্যে অন্যতম ‘অনন্ত প্রেম’। যে ছবি মুক্তি পায় ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে। আর এ ছবি মুক্তির পর তখনকার বিখ্যাত সিনে পত্রিকা চিত্রালী শেষের পাতায় অর্ধেকটাজুড়ে ছেপেছিল একটি ছবি। যেখানে দেখা গেছে, রাজ্জাক-ববিতার চুম্বন দৃশ্য।

আর লেখার শিরোনাম ছিল- ‘ঢাকার ছবিতে চুমু এলো’। বোঝাই যাচ্ছে সময়ের তুলনায় ছবিটি ছিল দারুণ সাহসী। ছবির শেষ দৃশ্যে নায়ক-নায়িকার গভীর চুম্বনের দৃশ্যটি মূলত ছাপা হয়েছিল চিত্রালীতে। যদিও পরে দৃশ্যটি বাদ দিয়েই ছবিটি মুক্তি পায়। ‘অনন্ত প্রেম’ নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত প্রথম ছবি। প্রযোজকও ছিলেন তিনি। রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনসের ব্যানারে নির্মিত ছবিটি ছিল সুপারডুপার হিট।

ছবিতে দেখা যায়, রাজ্জাক এবং তার তিন বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ববিতা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। রাজ্জাকের এক বন্ধু ববিতাকে পছন্দ করে। কিন্তু ববিতা কোনোভাবেই তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেয় না। বন্ধুকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে রাজ্জাক ও তার অন্য দুই বন্ধু। বন্ধুর পরামর্শ মতো তারা তিনজন একটি নির্জন স্থানে ববিতাকে আক্রমণ করে। ববিতার সাহায্যে এগিয়ে আসে সেই বন্ধু। সাজানো মারপিটের মাধ্যমে সবাইকে হারিয়ে সে ববিতার চোখে ‘হিরো’ বনে যায়। পরে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে ববিতাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। সে সময় চিৎকার শুনে রাজ্জাক এবং বন্ধুরা এগিয়ে যায়।

এবার সত্যিকারের মারামারির একপর্যায়ে রাজ্জাকের হাতে ওই বন্ধু খুন হয়ে যায়। বন্ধুর লাশ গাড়ির লাগেজ ক্যারিয়ারে নিয়ে শহরে ফেরে বন্ধুরা। ববিতাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয় রাজ্জাক। শৈশবে মাতৃহীন ববিতা সৎমায়ের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য আসছিলেন। কিন্তু এক লম্পট ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে দিতে চাইলে বিয়ের আসর থেকে তিনি পালান। ট্রেনে রাজ্জাক ও ববিতার আবার দেখা হয়ে যায়। দুজনেই পালিয়ে চলে যান পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অরণ্যে। সেখানে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা একে অপরের প্রেমে পড়ে যান। এদিকে রাজ্জাকের দুই বন্ধু পুলিশের হেফাজত থেকে পালাতে গিয়ে গুলি খেয়ে মারা যান। ফলে প্রকৃত ঘটনার সাক্ষী দেওয়ার মতো কেউ থাকে না।

রাজ্জাকের নামে পুলিশের হুলিয়া জারি হয়। পুলিশ একপর্যায়ে তাদের সন্ধান পায়। তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় দুজনের। মৃত্যুর সময় পরস্পরকে চুম্বন করেন তারা। শেষ পর্যন্ত ঝরনার তীরে পড়ে থাকে প্রেমিক-প্রেমিকার আলিঙ্গনাবদ্ধ প্রাণহীন দেহ। এ ছবির জন্য ববিতা ৫০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক তো নিয়েছিলেনই আরও অতিরিক্ত ২০ হাজার নিয়েছিলেন চুম্বন দৃশ্যের জন্য, যা সে সময় ছিল অকল্পনীয় সাহসিকতা।

রাজ্জাক এক স্মৃতিচারণে বলেছিলেন, ববিতা নাকি দৃশ্যটি করার পর খুব নার্ভাস হয়ে পড়েন। তিনি তখনও অবিবাহিত ছিলেন। ভয় পেয়েছিলেন এমন একটি দৃশ্যে অভিনয় করার পর তার হয়তো আর বিয়ে হবে না। পরবর্তী সময় তিনি অবশ্য দৃশ্যটির শিল্পিত রূপ দেখে মুগ্ধ হন।

‘চিত্রালী’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্সর বোর্ডও দৃশ্যটিকে ছাড়পত্র দিয়েছিল। শেষমুহূর্তে অবশ্য দৃশ্যটাকে বাদ দেওয়া হয়। সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত থাকা সত্ত্বেও ঠিক কী কারণে নির্মাতারা দৃশ্যটিকে রাখেননিÑ সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। দৃশ্যটি রেখে দেওয়া হলে সেটিই হতো বাংলা সিনেমার প্রথম গভীর চুম্বন দৃশ্য। চিত্রালীর দাবি অনুযায়ী, এর আগে বাংলা সিনেমায় চুমুর দৃশ্য এলেও সেগুলো ছিল মূলত চুম্বনের ইঙ্গিতবাহী, সরাসরি চুম্বন নয়।

এ ছবির সংগীত পরিচালক ছিলেন আজাদ রহমান। এ ছবির একটি গান সময়ের স্পর্শ বাঁচিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ল্যাসিক গানে পরিণত হয়েছে। গানটি হলো খুরশিদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনি’। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছিলেন ব্ল্যাক আনোয়ার, এটিমএম শামসুজ্জামান, রওশন জামিল, কাজী এহসান, খলিল, ওবায়দুল হক সরকার।

 

advertisement
Evaly
advertisement