advertisement
advertisement

দোহারে বাড়িতে ঢুকে খুন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২৩:৩২
advertisement

ওরা আমার কি সর্বনাশ করলরে, আমার বুকের ধন তপনকে এভাবে কেমনে মাইরা ফালাইল। আমার সোনারে ওরা খাইয়া ফালাইছেরে। এভাবেই আহাজারি করছেন ঢাকার দোহারে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া তপন কর্মকারের মা বেলী রানী কর্মকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দোহার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন কর্মকারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত তপন কর্মকার উপজেলার পূর্ব লটাখোলা গ্রামের মৃত গোপাল কর্মকারের ছেলে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ওই ব্যবসায়ীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী মনি কর্মকারকেও তুলে নিয়ে যায়। গতকাল বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে হাত-পা

বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

মনি কর্মকার জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে আমি আমার স্বামীকে খাবার খেতে দিয়ে টয়লেটে গিয়েছিলাম। আমাদের প্রায় প্রতিদিনই এত রাতে খাওয়া হয়। একটু পরই আমার স্বামীর হইচইয়ের শব্দ পাই। পরে আমি দৌড়ে টয়লেট থেকে বের হই। দরজা খুলে দেখি বাইরে দাঁড়ানো ৭-৮ জন মুখোশ ও রেইনকোট পরা লোক। তারা আমার দেবর তপনকে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে। কোপে তার পেটের বিভিন্ন অংশ বের হয়ে গেছে।

আমি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরকা পরিহত দুজন লোক আমার মুখ চেপে ধরে। সেই সঙ্গে আমার মনে হল আমার শরীরে কি যেন পুশ করা হলো। সঙ্গে সঙ্গে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এর পর আমার সঙ্গে কী হয়েছে আমি জানি না। পরে আমি জ্ঞান ফিরে দেখলাম আমি হাসপাতালে। শুনলাম এলাকার লোকজন নাকি ভোরে আমাকে একটি পুকুরের পাড় থেকে তুলে জয়পাড়া ক্লিনিকে ভর্তি করেছে।

তাকে কোনো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে আমাকে কোনো যৌন নির্যাতন করা হয়নি বলে আমার মনে হচ্ছে।

মনি কর্মকার কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। গতকাল বিকালে তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার ব্যাপারে কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তারা গুরুতর অবস্থায় তপনকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাতেই দোহার থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আর গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম, দোহার থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন, ওসি (তদন্ত) আরাফাত হোসেন।

এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে তদন্ত করা হবে। শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

advertisement