advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কোরআনি চিকিৎসার নামে ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২৩:৩২
advertisement

কোরআনি চিকিৎসা ও স্বর্ণের পাতিল পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রথমে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। এর পর আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে। তখন সন্দেহ হলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পুলিশ সেই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে টাকা উদ্ধার করতে পারেনি।

প্রতারকের নাম হাফেজ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী (৩৫)। তার বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের পাইরাং কমলাবিবির পাড়া। বাবার নাম জাকির

আহম্মদ। লিয়াকত নগরীর খুলশীর এলাকার আলফালাহ গলির চৌধুরী ম্যানশন নামের একটি ভবনে বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, নগরীর পাঁচলাইশের রহমাননগর আবাসিক এলাকার এক দম্পতির মধ্যে কলহ চলে আসছিল। এর মধ্যে লোকমুখে ছেলের মা রোকেয়া করিম জানতে পারেন, লিয়াকত আলী নামের এক হুজুর আছেন, যিনি কোরআনি চিকিৎসার মাধ্যমে দাম্পত্য কলহ সমাধান করতে পারেন।

এর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রহমাননগর আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের লিয়াকত আলীর বাসায় গিয়ে ছেলে ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি জানান রোকেয়া করিম। সব কিছু শুনে লিয়াকত জানান, বিরোধ সমাধান করা সম্ভব। তবে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লাগবে।

একইদিন লিয়াকতকে ২০ হাজার টাকা দেন রোকেয়া করিম। তখন আমল করার জন্য কিছু সুরা শিখিয়ে দেন লিয়াকত। চুক্তি অনুযায়ী কয়েকদিন পর পর রোকেয়াকে ডেকে নিয়ে টাকা আদায় ও সুরা শিখিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন লিয়াকত। আসা-যাওয়ার এক পর্যায়ে রোকেয়াকে লিয়াকত জানান, তার বাসার পাশে দেবর মালিকানাধীন খালি জায়গায় স্বর্ণের পাতিল রয়েছে। যার মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা। এ তথ্য সে কিতাব দেখে জেনেছে। উক্ত স্বর্ণের পাতিল নিয়ে দিলে তাকে অর্ধেক দিয়ে ফেলতে হবে বলেও জানান লিয়াকত। এর পর স্বর্ণের পাতিলের অর্ধেক দেবেন উল্লেখ করে রোকেয়ার কাছ থেকে তিনটি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেন লিয়াকত।

ছেলের সংসার ঠিক করে দেবে ও স্বর্ণের পাতিল পাইয়ে দেবে বলে রোকেয়ার কাছ থেকে মোট ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন লিয়াকত; কিন্তু স্বর্ণের পাতিল না পাওয়ায় কিছুদিন ধরে স্ট্যাম্প ফেরত চান রোকেয়া। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই রোকেয়াকে ফোন করে আরও এক লাখ টাকা চান লিয়াকত। না দিলে অমঙ্গল হবে বলেও জানান। এর পর মঙ্গলবার রোকেয়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্তে নেমে লিয়াকতকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিয়াকত ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার করা যায়নি। এই টাকা নাকি তিনি দান করে দিয়েছেন। তবে স্বর্ণের পাতিলের অর্ধেক দেওয়া সংক্রান্ত জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement