advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কমেছে করোনার নমুনা পরীক্ষা
সংক্রমণ ঝুঁকিতে দক্ষিণাঞ্চল

আল মামুন বরিশাল
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০ ২৩:৩২
advertisement

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বেড়েই চলছে দক্ষিণাঞ্চলে। ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগে করোনা রোগীর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনা আক্রান্তে মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলে প্রথম রোগী শনাক্তের দিন থেকে ৯৫তম দিন গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৪ হাজার ১৩০। আর করোনা পজিটিভ ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনাক্তের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৪৩ জন করোনা শনাক্ত হচ্ছেন। এ তথ্য শুধু যতজনের নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে ফলাফল পাওয়া গেছে, তার ওপর ভিত্তি করে। যদি পরীক্ষার হার সম্প্রসারণ করা যেত, তা হলে সংখ্যা আরও বাড়ত বলে মত শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমার্স চেইন রিঅ্যাকশন (আরটিপিসিআর) ল্যাবের দায়িত্বরতদের।

এখানকার কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, করোনার সংক্রমণ কমাতে হলে সঠিক সংখ্যাটা জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোয় দ্রুত ল্যাব স্থাপন করা উচিত।

একই দাবি সাধারণ মানুষেরও। এরই মধ্যে ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী জেলায় মাঠপর্যায়ে ল্যাবের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। ল্যাব স্থাপনের দাবির কথা জোরালোভাবে উত্থাপন করে যাচ্ছেন বরগুনা ও পিরোজপুরের জনসাধারণও। যদিও সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং যোগাযোগব্যবস্থাসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে গত ১৩ জুলাই যাত্রা শুরু করেছে পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম।

জানা গেছে, বর্তমানে নমুনা সংগ্রহ কিছুটা কমলেও বিভাগে থাকা একটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিনের সবগুলো নমুনা পরীক্ষা সম্ভব না হওয়ায় রিপোর্ট পেতে প্রতিনিয়ত দুদিন আবার অনেক ক্ষেত্রে তার অধিক সময় বিলম্ব হচ্ছে। আবার অনেক সময় নমুনাগুলো বিভাগের বাইরে ঢাকাসহ অন্য স্থানের ল্যাবেও পাঠানো হচ্ছে। আর তাতেও রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ থাকা রোগীদের আলাদাভাবে আইসোলেটেড করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

শেবাচিম হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সৌরভ বলেন, প্রথম যে রোগী উপসর্গ নিয়ে আমাদের কাছে বা হাসপাতালে আসছেন, তাকে আমরা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করি। নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হলে যদি রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হয়, তাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ আইসোলেশন ওয়ার্ডে পজিটিভ ও নেগেটিভ রোগী একত্রে থাকছেন। দ্রুত তাদের আলাদা না করা গেলে নেগেটিভ রোগীও পরবর্তী সময়ে সংক্রমিত হবেন। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট দ্রুত প্রয়োজন।

২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি বলছে, বিভাগের জনসংখ্যা ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৬৬। ২০২০ সালে অর্থাৎ নয় বছরে বিভাগে জনসংখ্যা পৌঁছতে পারে এক কোটিতে। সেই এক কোটি মানুষের জন্য মাত্র একটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজে।

পরিসংখ্যান আরও বলছে, বরিশাল বিভাগে উপসর্গ নিয়ে নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন ২০ হাজারের মতো মানুষ। আর আইইডিসিআরের ১২ জুলাইয়ের তথ্যানুযায়ী শুধু শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে ১৩ হাজার ৮৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সে হিসাবে বাকি নমুনাগুলো বিভাগের বাইরের ল্যাব থেকে করানো হয়েছে।

এদিকে ২০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করে ৪ হাজার ১৩০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। অর্থাৎ ২০ শতাংশ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার পরিসর বাড়ানো গেলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করেন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক খান মোশতাক আল মেহেদী। এ ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়াটাও যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, মহামারী থেকে বাঁচতে হলে নিজের সুরক্ষা নিজের কাছে। নিজে সুরক্ষিত না হলে এ মহামারীর কাউকে ছাড় দেবে, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হিসাব বলছে, বিভাগে মোট আক্রান্তের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৯০ জন সুস্থ হয়েছেন, যা আক্রান্তের ৩৮ শতাংশ। সুস্থতার হার মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও উপসর্গহীনভাবে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া শনাক্ত করা যাচ্ছে না। আর দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এটিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়। এদিকে বিভাগে গত রোববার পর্যন্ত ৮৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর গড় হিসাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করে স্বাস্থ্য দপ্তর। কারণ মোট আক্রান্তের ২ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন করোনায়।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় সর্বপ্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার বোনও করোনা সংক্রমিত হন। কিন্তু প্রথম লকডাউন করা হয়েছিল বরিশাল জেলাকে। তার কারণও অবশ্য ভিন্ন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ ও আক্রান্তের হারের ওপর নির্ভর করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা ছিল বরিশাল।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় জানিয়েছে, সর্বপ্রথম লকডাউন করা হয় গত ১২ এপ্রিল বরিশাল জেলাকে। এর পর ১৬ এপ্রিল ঝালকাঠি, ১৭ এপ্রিল পিরোজপুর, ১৮ এপ্রিল বরগুনা, ১৯ এপ্রিল পটুয়াখালী ও সর্বশেষ ২১ এপ্রিল ভোলা জেলাকে লকডাউন করা হয়।

যদিও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। এতে এ অঞ্চলে করোনার বিস্তার ভয়াবহ রকমের ঘটে। তাই জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বরিশালে এর কার্যকারিতা এখনো দেখা যায়নি।

advertisement
Evaly
advertisement