advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টেস্ট
সিরিজ জয়ে চোখ উইন্ডিজের

ক্রীড়া ডেস্ক
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০৯
advertisement

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১১৬ দিন স্থগিত থাকার পর ক্রিকেটকে মাঠে ফেরায় ইংল্যান্ড। করোনার আবহের মধ্যেও দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে তিন টেস্টের সিরিজ আয়োজন করে ইংলিশরা। কিন্তু ক্রিকেট ফেরানোর ম্যাচে লজ্জাই পেতে হলো ইংল্যান্ডকে। সাউদাম্পটনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। ফলে সিরিজ জয়ের দারুণ এক সুযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেই সঙ্গে ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩২ বছর সিরিজ জিততে না পারার বন্ধাত্ব ঘোচানোর সুযোগও পাচ্ছে জেসন হোল্ডারের দল।

দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সিরিজ বাঁচাতে সমতা লক্ষ্য ইংল্যান্ডের। ম্যানচেস্টারে আজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে বিকাল ৪টায়।

১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একচেটিয়াভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। এটিই ছিল ইংল্যান্ডের মাটিতে ক্যারিবীয়দের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জয়। এর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে আটটি টেস্ট সিরিজ খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কোনোটিতেই জিততে পারেনি তারা। আটটির মধ্যে দুটি ড্র করে ক্যারিবীয়রা। সেই দুই সিরিজের স্মৃতিতেও এখন ধুলোর বসবাস। ১৯৮৮ সালের সর্বশেষ সিরিজ জয়ের পর, পর পর দুবারের সফরেই ড্র করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই দুটি সিরিজ ছিল ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে। এর পর ইংল্যান্ড সফরে টানা ছয় সিরিজই হারে ক্যারিবীয়রা।

এবার সিরিজ জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর শুরু হয় ক্রিকেট। ক্রিকেটের পুনর্জন্মের প্রথম ম্যাচেই দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অথচ সিরিজ শুরুর আগে স্পষ্টভাবে ফেভারিটের তকমাটা ছিল ইংল্যান্ডের গায়ে। আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের চতুর্থ স্থানে আছে ইংল্যান্ড। আর র‌্যাঙ্কিং তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম। শুধু র‌্যাঙ্কিংই নয়, পারফরম্যান্স ও নিজ দেশের কন্ডিশনের বিচারে ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাউদাম্পটনে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের নৈপুণ্যে ম্যাচ জয়ের স্বাদ নেয় ক্যারিবীয়রা। টস হেরে প্রথমে বল হাতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া শ্যানন গ্যাব্রিয়েল নেন ৪ উইকেট। ফলে ২০৪ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে ব্যাটসম্যানদের বদৌলতে প্রথম ইনিংসে ৩১৮ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ১১৪ রানের লিড পায় ক্যারিবীয়রা। ১১৪ রানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচে ফেরার লড়াই শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু এবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলারদের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়তে পারেনি ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি গ্যাব্রিয়েল, স্পিনার রোস্টন চেজ ও পেসার আলজারি জোসেফ। গ্যাব্রিয়েল ৫টি, চেজ-জোসেফ ২টি করে উইকেট নেন। ৩১৩ রানে অলআউট হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০০ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য ২০০ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। তবে শুরু ধাক্কা সামলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন ক্যারিবীয়রা। সিরিজ এগিয়ে গিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক হোল্ডার। সিরিজ জয় নিয়েই এখনই ভাবতে চান না তিনি। হোল্ডার বলেন, ‘আমরা সিরিজ নিয়ে ভাবছি না। ম্যাচ জিতলে, সিরিজ জয় এমনিতেই হবে। আমরা জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। প্রথম টেস্টে যেভাবে খেলেছি, তার চেয়ে আরও বেশি আক্রমণত্মক খেলতে হবে আমাদের। দলের সবাই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ। সাউদাম্পটনে যেভাবে সতীর্থরা খেলেছে, তাতে আমি খুশি। আশা করছি, ম্যানচেস্টারেও আমরা সফল হতে পারব।’

advertisement
Evaly
advertisement